স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ। এর আগে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহনে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। একই প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার মোট সাত পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি এবং দুজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফারুক আহমেদ সদ্য সাবেক এসআরবি মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বে যেসব উদ্যোগ নেনফারুক আহমেদের পেশাগত জীবনের সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন।
গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এ দায়িত্ব নেওয়ার পর মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং চাঁদাবাজি ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেন তিনি।মহাসড়কে অপরাধের সুযোগ কমানো, জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা ছিল তাঁর অগ্রাধিকার।তাঁর পরিকল্পনায় মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপন করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) অত্যাধুনিক ক্যামেরা।ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধ ও মাদক চোরাচালান শনাক্ত এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া মহাসড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়। দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং মহাসড়কে পুলিশের উপস্থিতি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব অপরাধ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কে এই ফারুক আহমেদ–
ফারুক আহমেদের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৈডালা (রণবাঘা) গ্রামে। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি। প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হস্তক্ষেপে তাঁকে সেখান থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।বগুড়ায় বাড়ি হওয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনায় বিগত সরকারের আমলে তাঁকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পদোন্নতি ও রদবদলের মধ্যে পুলিশ সুপার থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি হন ফারুক আহমেদ।’
পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে প্রশাসনিক দায়িত্বে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।হাইওয়ে পুলিশের নেতৃত্বের পর এবার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।’
এসসি//




