রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত সৌন্দর্য বর্ধনের নামে লোহার গ্রিল দিয়ে গাছ লাগিয়ে আটকে দিয়েছে নাসিম স্কয়ার নামে একটি বহুতল ভবন কর্তৃপক্ষ। এতে করে ওই ফুটপাত দিয়ে চলাচল করি পথচারীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন।”
স্থানীয়রা বলছে, র্যাংস নাসিম স্কয়ার নিজেদের সীমানা এলাকায় সৌন্দর্য বর্ধনের গাছ না লাগিয়ে ব্যস্ততম এই সড়কের ফুটপাতে গাছ দিয়ে দখল করেছে। শুধু গাছ লাগিয়েই ক্ষান্ত হহনি, উল্টা লোহার গ্রীল দিয়ে ফুটপাতে বেড়া দিয়েছে ভবন মালিক। এখন এই গাছের আড়ালে পথচারীদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের সড়কে অবৈধভাবে গাছ রোপনের পাশাপাশি লোহার গ্রীল লাগানো হয়েছে। এমন কি এই গাছ রক্ষার অজুহাতে আরও গ্রীল লাগাতে গেলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেন।পরে তোপের মুখে গ্রীলের বর্ধিত অংশ সরিয়ে নেয় নাসিম স্কয়ারের দায়িত্বরত ম্যানেজার মাসরুর খান।এমন কি স্থানীয়রা প্রতিবাদ করায় থানা পুলিশ ডেকে গ্রেফতারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে মাসুরের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, জুলাই আগস্টে কোটা বিরোধী আন্দোলনে র্যাঙ্কস নাসিম স্কয়ারের ভেতর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করেছে। এমন কি এই ভবনে আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার ধাওয়া দিলে তারা আশ্রয় নিয়ে শক্তি সঞ্চার করে হামলা চালিয়েছে।এমন কি অভিযোগ আছে ১২ তলা ভবনের অর্ধেক আবাসিক ও বাকি অর্ধেক বাণিজ্যিক অনুমোদন থাকলেও পুরাটাই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
বাসিন্দারা আরও জানান, এই ভবনের পশ্চিম পাশে নিজের যায়গায় গ্রীল দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।এর বাইরেও সড়কের ফুটপাতেও বড় বড় ড্রামে গাছ রোপন করা হয়েছে। এমন কি গাছের ড্রাম লোহার গ্রীল দিয়ে আটক রাখা হয়েছে। এতে এই পথে চলাচল করা মানুষ ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছে না।এমন কি রাতের অন্ধকারে এই ফুটপাতে গাছের আড়ালে ছিনতাইকারীরা ওঁৎ পেতে থাকে। নিরিবিলি একাকি কোনো পথচারীকে পেলেই সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে। এই বিষয় একাধিকবার দায়িত্বরতদের জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় নি।
অপর এক বাসিন্দা বলেন, গতকাল গ্রীল লাগানোর প্রতিবাদ করলে ভবনের ম্যানেজার মাসরুর খান পুলিশ ডেকে আনে।পরে বিস্তারিত দেখার পর পুলিশ ভবনের ম্যানেজারকে ফুটপাত দখল মুক্ত করে গ্রীল খুলে ফেলতে বলে।
সৌন্দর্য্য বর্ধনের নামে ফুটপাত দখল করার অভিযোগের বিষয়ে ভবনটির ম্যানেজার মাসরুর খান বলেন,ভবনের মালিক পক্ষ আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছে আমি সে নির্দেশনা মেনেছি। সে নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ফুটপাতে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য গাছ লাগিয়েছি। সৌন্দর্য বর্ধনের নামে আপনাদের ভবনের দেয়ালের ভিতর গাছ না লাগিয়ে গ্রীল দিয়ে ফুটপাত আটকে দিলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজউক এর প্ল্যানের মধ্যে নাই আমাদের ভিতর গাছ লাগানোর কোন প্ল্যান নেই। তাই আমরা বাহিরে গাছ লাগিয়েছি। আমি আগামীকাল ই গ্রীল কেটে জায়গা করে দিবো।
এসএএ//



