মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের সরকার একমত হয়েছে।
মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বল্প ব্যয়ে, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ অভিবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা হবে এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। সূত্র জানায়, অতীতে কিছু এজেন্সির অতিরিক্ত সম্পৃক্ততার কারণে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল, যা এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, যাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১,৭০০ রিঙ্গিত—মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ কারণে দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ ও ২০২২-২৪ মেয়াদে অনলাইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে সাত লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন এবং তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তবে দেশে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির নেতিবাচক প্রচার ও মামলার কারণে মালয়েশিয়া সরকার পূর্বে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল।
শীর্ষ বৈঠকের ফলে পরিস্থিতি বদলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ৬ বছরে কমপক্ষে ১২ লাখ নতুন বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো সম্ভব হবে। এছাড়া, ইতোমধ্যে ভিসাপ্রাপ্ত প্রায় ৮ হাজার কর্মী যারা নির্ধারিত সময়ে যেতে পারেননি, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আবার শুরু হচ্ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজারকে আরও স্থায়ী ও লাভজনক করবে। বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং শ্রমিক কল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।
এসসি//



