উত্তরায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিয়া (১৫) বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।”
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি বলেন, “মাহিয়ার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। দীর্ঘ চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাইলস্টোন ট্রাজেডিতে ১৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন।”
মায়ের কান্না-ভেজা ক্ষোভ: ‘আমার মেয়ে বাঁচতে পারত’
মাহিয়ার মা আফরোজা বেগম বলেন, “আমার মেয়ে মাইলস্টোন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। বাবা নেই, আমরা তিন বোনের মধ্যে সে ছিল মেঝো। পাঁচ বছর আগে ওর বাবা মারা যায়। আমরা উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের একটা ফ্ল্যাটে থাকতাম।”
কিন্তু মৃত্যুর পেছনে শুধু আগুন নয়, কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন স্কুল কর্তৃপক্ষকেও।আফরোজা বলেন, “সকাল ৮টা থেকে ক্লাস, দুপুর ১টায় শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ জোর করে কোচিং করায়, বাচ্চাদের ‘খাঁচায়’ আটকে রাখে। যদি একটায় ওরা বের হতে পারত, হয়তো আমার মেয়ে বেঁচে যেত।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর কেউ বের হতে পারেনি, কারণ ক্লাসরুমগুলো খাঁচার মতো—ভিতর থেকে দরজা খোলা যায় না। মাইলস্টোন এখন একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাচ্চাদের নিরাপত্তার কথা কেউ ভাবেনি।”
মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৪, চিকিৎসাধীন আরও অনেকে
উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের মাইলস্টোন স্কুলের পাশে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগুন ধরে যায়। এতে স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বহু মানুষ দগ্ধ হন।’
এখন পর্যন্ত জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং আরও অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
এসসি//



