বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ দুর্নীতির অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে গেছেন। শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে তার ছুটি কার্যকর হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এক ইমেইল বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।”
সায়মার অনুপস্থিতিতে WHO-র সহকারী মহাপরিচালক ড. ক্যাথারিনা বোহমে তার দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালন করবেন। তিনি ১৫ জুলাই নয়াদিল্লির সিয়ারো (SEARO) কার্যালয়ে যোগ দেবেন।”
⚖️ দুদকের মামলা: কী অভিযোগ সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে?
বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার–এই তিনটি গুরুতর অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করেছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়—
- ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা উপস্থাপন করে WHO নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত বলে প্রচার করেন, যা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।
- নিজের সুচনা ফাউন্ডেশনের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করেন।
- 📜 আইনি ধারা অনুযায়ী অভিযোগ:
- সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দণ্ডবিধির:
- ৪২০ ধারা (প্রতারণা),
- ৪৬৮ ধারা (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি),
- ৪৭১ ধারা (জাল দলিল ব্যবহার),
- এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
👤 কে সায়মা ওয়াজেদ?
সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা।
তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে WHO-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের (SEARO) আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নির্বাচন শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিতর্কিত ছিল।
🚫 বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হওয়ার শঙ্কা:
মামলার পর থেকে তিনি বাংলাদেশ সফর থেকে বিরত রয়েছেন। কারণ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি WHO-র বাইরে থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন না।”
এসএএ//



