আগামী বছরের শুরুতেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। আলোচনায় উভয় দেশ গণতন্ত্র, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
📞 ফোনালাপের বিস্তারিত
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দুই নেতার মধ্যে ১৫ মিনিটের সৌহার্দ্যপূর্ণ ফোনালাপ হয়। আলোচনা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান,
“আলোচনায় নির্বাচন, সংস্কার, রোহিঙ্গা সহায়তা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা ইস্যু প্রাধান্য পেয়েছে।”
🗳️ আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“২০২৫ সালের শুরুতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান সংলাপ কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সংস্কারে সহায়ক হবে। নির্বাচন কমিশন নিরলসভাবে কাজ করছে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে।”
তিনি আরও জানান,
“আমাদের তরুণরা এই প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। মার্কো রুবিওকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা তরুণদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা জাগিয়ে তুলবে।”
💬 মার্কো রুবিওর প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি ও নির্বাচনী উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য ও শীর্ষ রেমিট্যান্স উৎস। আমরা শিগগিরই পারস্পরিক শুল্ক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করতে আগ্রহী।”
🌍 ভূরাজনীতি ও ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা
দুই নেতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা, এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। মার্কো রুবিও জানান, এই অঞ্চলে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা মার্কিন নীতির অগ্রাধিকার।”
👥 রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তা
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের রোহিঙ্গা সহায়তায় ধারাবাহিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই খাতে সর্বোচ্চ অবদান রেখে চলেছে। মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল।”
🇺🇸 ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক স্থগিতাদেশে কৃতজ্ঞতা
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অনুরোধে ৯০ দিনের জন্য পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস।”
📰 মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা
মার্কিন মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, “ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও নিরাপত্তা ইস্যুতে পারস্পরিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।”
এসসি//



