জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাবিত “জুলাই সনদ” নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বামপন্থী চারটি রাজনৈতিক দল ঘোষণা দিয়েছে যে তারা এ সনদে স্বাক্ষর করবে না।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই সনদের খসড়ায় সংবিধানের চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সই না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া দলগুলো হলো—
🔹 বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)
🔹 বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)
🔹 বাংলাদেশ জাসদ
🔹 বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)
বাম দলগুলোর অবস্থান
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, “জুলাই সনদের পটভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস প্রতিফলিত হয়নি। এছাড়া চারটি বাম দলের নোট অব ডিসেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই আমরা এতে স্বাক্ষর করব না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি অঙ্গীকারের বিরোধিতা করেছি যেখানে বলা হয়েছে—জুলাই সনদকে কোনো আদালতে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। এই ধারা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।”
অন্যদিকে গণফোরাম জানিয়েছে, জুলাই সনদে যদি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল দলিলগুলো অন্তর্ভুক্ত না করা হয়, তবে তারাও সই করবে না।
দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সনদে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আগামীকালের মধ্যে সংশোধন না হলে গণফোরাম স্বাক্ষর করবে না।”
প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জুলাই সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়া চলছে, যার লক্ষ্য রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করা। তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চার মূলনীতি, ও দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে মতবিরোধের কারণে সনদটি স্বাক্ষরের আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “জুলাই সনদ রাজনৈতিক ঐক্যের পরিবর্তে নতুন বিভাজন সৃষ্টি করছে, যদি দলগুলোর মৌলিক আপত্তি বিবেচনা না করা হয়।”
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
এসসি//



