রাজনীতির মাঠে বহুল আলোচিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদের একীভূত হওয়ার আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। দলের নাম, নেতৃত্ব কাঠামো ও সাংগঠনিক অবস্থানসহ একাধিক বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় ঐক্যের এই উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দল এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়নি, তবে উভয় দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নিশ্চিত করেছেন একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দুই দলের মধ্যে একীভূত হওয়ার আলোচনা শুরু হয়। এর পর একাধিক বৈঠকে উভয় দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার গণমাধ্যমকে বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আমাদের একীভূত হওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে তাদের অনেক নেতা এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। সেই আলোচনা এগোচ্ছে, কিন্তু পুরো দল আমাদের সঙ্গে এলে কীভাবে অ্যাকোমোডেট করব, সেটি বিবেচনায় আছে।”
একইভাবে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপির একীভূত হওয়ার সুযোগ নেই। যে কেউ আসতে চাইলে এনসিপির পতাকাতেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।”
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য শাকিল উজ্জামান ফেসবুকে লিখেছেন, “গণঅধিকার পরিষদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হবে না। এনসিপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।” একই মত দিয়েছেন দলের আরেক নেতা আবু হানিফ। তিনি বলেন, “এনসিপি গত এক বছরে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যেসব চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তার দায় আমরা নেব না। মানুষ এখন এনসিপির ওপর ক্ষুব্ধ, কিন্তু গণঅধিকার পরিষদের প্রতি ইতিবাচক ধারণা বাড়ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর গণঅধিকার পরিষদের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠেনি। বরং এনসিপির অনেক সাবেক নেতাকর্মী ইতোমধ্যেই গণঅধিকার পরিষদে যোগ দিয়েছেন, এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের একীভূত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আপাতত পিছিয়ে গেল। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে জোট বা অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।’
এসসি//



