প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে রাষ্ট্রচিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার বলেছেন, “দেশ চালানো আর গ্রামীণ ব্যাংক চালানো এক নয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা অপেক্ষা করেছি আপনার যেন মতি হয়। আপনি যেন রাজনীতি কাকে বলে, আইন কাকে বলে, সেটা বোঝেন। কারণ রাষ্ট্র মানে কিন্তু শুধু ব্যাংক চালানো নয়।”
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
🗣️ গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ
ফরহাদ মজহার বলেন, “আপনি তো গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আসেননি। এখানে যারা বসে আছেন, তারা অনেকেই সরাসরি গণঅভ্যুত্থানে রাস্তায় ছিলেন, বুক পেতে দিয়েছেন, বছরের পর বছর নির্যাতিত হয়েছেন। কিন্তু আপনি গণঅভ্যুত্থানের কেউ নন।”
তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস তরুণ শিক্ষার্থীদের “মাস্টারমাইন্ড” বলে আখ্যায়িত করেছেন, অথচ গণঅভ্যুত্থানের সত্তা হলো জনগণ, কোনো ব্যক্তি নয়।
⚠️ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ
আগামী নির্বাচনের সাফল্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার বলেন,
“সফল নির্বাচনের কোনো লক্ষণ দেখছি না। কীসের ভিত্তিতে নির্বাচন দিচ্ছেন? দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবেন না। আপনার জনপ্রিয়তার হ্রাস আমাদের জন্য বিপজ্জনক। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”
💬 রাজনৈতিক দল প্রসঙ্গে সমালোচনা
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল বলে কিছু নেই। রাজনৈতিক দল মানে যারা জনগণের সেবা করে, জাতিকে পথ দেখায়। এখানে কেবল লুটেরা শ্রেণি ও দুর্নীতিবাজরা আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, কিন্তু জনগণের সঙ্গে কথা বলেননি।”
📌 বৈধতা ও তরুণদের ভূমিকা
শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সংবিধানের অধীনে শপথ নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন,
“আপনি একটা অবৈধ সরকার। তবে অবৈধ সরকার বলার মানে এই নয় যে আপনাকে আমরা চাই না। এর মানে হচ্ছে, আপনার প্রথম কাজ নিজের বৈধতা নিশ্চিত করা।”
তরুণদের মন্ত্রণালয়ে নেওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, “তরুণরা দেশ চালাবে, এটাই স্বপ্ন। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলাতন্ত্র রয়ে যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করা হয়েছে।”
এসসি//



