জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ আগামীকাল (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিতব্য জুলাই ঘোষণাপত্র প্রদান অনুষ্ঠান বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার দিবাগত রাত ২টায় নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
হান্নান মাসউদ লেখেন, “এই সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের ১৫৮ জন গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ককে দাওয়াত দেয়নি। শহীদ পরিবারের জন্যও যথাযথ সম্মানজনক আসনের ব্যবস্থা হয়নি। আমি ও আমার সহযোদ্ধারা যারা হাসিনার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছি, তারা যদি সম্মান না পান, তাহলে আমি অনুষ্ঠান বর্জন করলাম।” তিনি শেষ করেন #Loud_And_Clear হ্যাশট্যাগ দিয়ে।
ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির পাঁচ সদস্য উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন:
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব)
- মির্জা আব্বাস
- ড. আব্দুল মঈন খান
- নজরুল ইসলাম খান
- সালাহউদ্দিন আহমদ
এর আগে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
একই দিন বিকেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি ভার্চুয়াল বক্তৃতায় বলেন,
“দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। জনগণের রায় পেলে আমরা যত দ্রুত সম্ভব এসব বাস্তবায়ন করব।”
তিনি আরও জানান,
“পরিবেশ রক্ষা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য। আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২৫-৩০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি।”
তারেক রহমান আন্দোলনে শহীদ ও নির্যাতিতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন,
“তাদের ত্যাগকে সম্মান জানাতে হলে, তাদের যে প্রত্যাশা ছিল তা পূরণ করাই আমাদের দায়িত্ব। শুধু অনুষ্ঠান আয়োজন নয়, বাস্তবায়নই তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”
গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে “জুলাই ঘোষণাপত্র” প্রকাশ হচ্ছে। এটি নতুন সরকারের নীতিগত রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে মূল নেতৃত্ব ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের যথাযথ সম্মান না দেওয়ায় অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সৈয়দ আসিফ আলী//এসসি//



