নির্বাচনের প্রতীকের তালিকায় আবারও ‘নৌকা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে—এমন খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন—“অভিশপ্ত ‘নৌকা’ মার্কাটাকে কোন বিবেচনায় আবার শিডিউল ভুক্ত করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালেন?”
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন: “সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই গণঅভ্যুত্থানকে আপনারা জাস্ট বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন। কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এবং কাদেরকে দেওয়ার জন্য এই মার্কা রাখছেন আপনারা?”
তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন ও তাদের প্রতীককে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাত দেখাচ্ছে।”
❖ ‘নৌকা’ প্রতীকের বিতর্কের পেছনের প্রেক্ষাপট:
গত ১২ মে, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের প্রতীকের তালিকায় আবারও ‘নৌকা’ প্রতীকের ফিরে আসা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রশ্ন তোলেন—“পরাজিতদের স্বপ্নের রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে তাদের মার্কা ফিরিয়ে দিতে চান?”
তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন: “বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রশ্ন রইলো।”
❖ প্রতীক সংক্রান্ত নিয়ম কী বলে?
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, নিবন্ধিত দলগুলো নির্দিষ্ট প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে, যদি কোনো দল নিষিদ্ধ বা তার নিবন্ধন স্থগিত থাকে, সাধারণত সেই দলের প্রতীক ব্যবহার বা বরাদ্দ দেওয়া হয় না।”
তবে এবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে ‘নৌকা’ প্রতীকের স্থান পাওয়া নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। বিশেষ করে একটি নিষিদ্ধ দলের প্রতীক নির্বাচন কমিশনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে গণআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কাজ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।”
এসসি//



