রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউসিং এর এভিনিউ-২ এর একটি প্লটের ওয়াল ভেঙে ফেলায় আদাবর থানা বিএনপি'র যুগ্ন আহবায়ক মনোয়ার হাসান জীবন ওরফে লেদু হাসানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বাদী মোহাম্মদ সোলায়মান বললেন আমি মামলা দিতে চাইনি হাউজিং আমাকে মামলা দিতে বলেছে।
মামলা কিভাবে হল সে বিষয়ে কথা হয় বাদী মোহাম্মদ সোলায়মান এর সাথে তিনি জানান, চন্দ্রিমা হাউসিংয়ের এই জায়গা নিয়ে আমার চাচার সাথে ঝামেলা চলছিল। আমার চাচা এই জমি অন্য আরেক জনের কাছে বিক্রি করে দেয়। আমরা বিএনপি করি বিধায় এই জায়গাটি হাউজিংয়ের তৎকালীন এমডি সারোয়ারের কাছে বিক্রি করে দেয় আমার চাচা। সরকারের পট পরিবর্তনের পরে আমরা জায়গাটি বুঝে নিতে হাউজিং এর শরণাপন্ন হয়ে। পরে হাউসিং আমাদের সেই জায়গা দখলে যেতে বলে। পরে আমরা তাদের অনুমতি নিয়ে আমাদের জায়গায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাউন্ডারি শুরু করি। বাউন্ডারি দেয়ার পর রাতের অন্ধকারে কে বা কারা আমাদের ওয়ালটি ভেঙ্গে ফেলে। এরপর আমরা সাথে কথা বলি এবং তারা জানায় আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মনোয়ার হাসান জীবন ওরফে লেদু হাসানের নেতৃত্বে এই জায়গার ওয়ালটি ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তীতে হাউজিং এর বর্তমান এমডি মনির হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার ইমরান আমাদের আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মনোয়ার হোসেন জীবনকে প্রধান আসামি করে ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বলে।”
তিনি আরও জানান,পরবর্তীতে হাউজিংয়ের কথা অনুযায়ী মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসানকে প্রধান আসামি করে ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে ২১ অক্টোবর মোহাম্মদপুর থানা একটি মামলা দায়ের করি। যেহেতু তিনি এই ঘটনার সাথে মনোয়ার হাসান জীবন জড়িত নয় আমরা এই মামলাটি তুলে নিতে চাই। চন্দ্রিমা মডেল হাউজিং এর লোকজনই আমাদের দিয়ে এই মামলাটি করিয়েছে।”
চন্দ্রিমা মডেল হাউজিং-এ তো সিসি ক্যামেরা থাকার কথা আপনারা কি কারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে সেটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছিলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কোন সিসিটিভি ফুটেজ দেখি নাই হাউজিং আমাদের যেভাবে মামলা করতে বলেছে আমরা সেভাবে মামলা করেছি। আমি যাদের আসামি করেছি তারা এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত কিনা সেটির সিসিটিভি ফুটেজ হাউসিং আমাদের এখন পর্যন্ত দেখায়নি। মোটকথা হাউসিং আমাদের যেভাবে মামলা করতে বলেছে সেভাবেই আমরা মামলা করেছি। এই ঘটনায় যারা আসামি হয়েছেন তাদের সম্পৃক্ততার প্রমান এখনো আমি পাইনি।
এদিকে এই ঘটনার পর আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এর পদ থেকে মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসানকে বহিষ্কার করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনোয়ার হাসান জীবন ওরফে লেদু হাসান জানান, এই ঘটনার সাথে আমি কোন ভাবে সম্পৃক্ত নই। একটি পক্ষ আমার রাজনৈতিক ভাবে হেও প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করে এই মামলাটি আমার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে। আমি যে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছি তার পক্ষে সঠিক কোন তথ্য প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এই মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির রাজনীতি থেকে আমাকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে চায়।
অন্যদিকে বাদীর অভিযোগের বিষয়ের কথা হয় চন্দ্রিমা মডেল টাউনের এমডি মো মনির হোসেন এর সাথে তিনি জানান, এই ঘটনার মামলার বাদী এবং তার ভাই চন্দ্রিমা মডেল টাউনে ১৬ নম্বর প্লটে জায়গা পাবে বলে আমাদের কাছে আসেন। পরে আমরা বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে কয়েক দফা মিটিং করেছি। তাদের বলেছি যেহেতু এই জমিটি আপনার চাচা বিক্রি করে দিয়েছে সে তো আপনারা আপনাদের চাচার সাথে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলেন। পরবর্তীতে তারা আমাদের অনেক জোরাজুরি করে এবং বলে তারা এখানে তাদের জমিতে বাউন্ডারি দিতে চায়। তখন আমরা এই বিষয়ে তাদের বাধা দেয়নি।
তিনি আরও জানান, এরপর বাউন্ডারি দেওয়ার জন্য হাউসিংয়ের গেট দিয়ে ট্রাক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে তখন সিকিউরিটি গার্ড আমাদের ফোন দেয় এবং অনুমতি চায়। তখনও আমরা তাদের বাধা দেয়নি তারা তাদের মত করে বাউন্ডারি দিয়েছে। কিন্তু তারা যে কাজটি করেছে যেই দাগ নাম্বারে তারা জমি পাবে সেটিসহ আর একজনের জমিও বাউন্ডারি করে ঘিরে রেখেছিল। পরবর্তীতে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে এসে তাদের ওয়াল ভেঙে ফেলে।
বাদী জানায় আপনি ও হাউজিং এর ইঞ্জিনিয়ার ইমরান দুজনে মিলেই মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদু হাসানসহ সকলের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বলেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাদের কেন মামলা দিতে বলব। তারা যেই তাকে জমি দাবি করে সেই দাগ বাদে তারা অন্য দাগে বাউন্ডারি করে রেখেছিল। আমরা সিসি ফুটে যেয়ে মনোয়ার হোসেন জীবনের ফেলে দোয়া চানসহ অন্য যাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে সেসব সিটি ফুটেজ আমরা দেখতে পাইনি। তারা নিজেরাই মামলা করে এখন আমাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।
এ বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো ইসলাম মল্লিক জানান, চন্দ্রিমা মডেল টাউনের যেই প্লটের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তাতে মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কংক্রিট কোন এভিডেন্স আমি পাইনি। হাউজিং থেকেও আমাদেরকে সিসি ফুটেজ দেয়া হয়নি কারা ওয়ালটি ভেঙেছে। তদন্ত করে এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে এই ওয়াল ভাঙ্গার কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আশা করছি খুব দ্রুতই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে সাবমিট করা হবে বলে জানান তিনি।”
এসএএ//



