আলোচিত সাবেক ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে সিলেট জেলার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে বদলি/পদায়ন করা হলো। আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
এর আগে সারওয়ার আলম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।’
সারওয়ার আলমের কর্মজীবন ও পদোন্নতি
২০০৮ সালের নভেম্বরে ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন মো. সারওয়ার আলম। ২০১৪ সালের ১ জুন তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। তবে ২০২১ সালের ৭ মার্চ প্রশাসনের ৩৩৭ জন সিনিয়র সহকারী সচিব উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলেও তিনি বঞ্চিত হন।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে সারওয়ার আলম জানান, বহু প্রতীক্ষার পর তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন—
“আলহামদুলিল্লাহ্। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর যিনি সর্বোত্তম ফয়সালাকারী। তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর আজ উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলাম।”
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুর্নীতি, ভেজালবিরোধী অভিযান ও বিভিন্ন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সারওয়ার আলম আলোচিত হন। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কারণে পদে পদে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
২০২১ সালে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, “চাকরি জীবনে যেসব কর্মকর্তা অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়েছেন তাদের বেশিরভাগই চাকরি জীবনে পদে পদে বঞ্চিত ও নিগৃহীত হয়েছেন। এ দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াটাই অন্যায়।”
এই স্ট্যাটাসের জেরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে এবং তার কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। তবে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনো লিখিত বক্তব্য দেননি।’
সব বিতর্ক পেছনে ফেলে অবশেষে আলোচিত এ কর্মকর্তা সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন। প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে, তার অভিজ্ঞতা ও কঠোর অবস্থান সিলেটের প্রশাসনে নতুন গতি আনবে।’
এসসি//



