১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে শহীদ হন তিনি। এ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকালীন শোক ও কলঙ্কের অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড
সেই রাতে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামাল, মধ্যম পুত্র শেখ জামাল ও তার স্ত্রী রোজী জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল এবং ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা—শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা—বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের ওপরও হামলা
সেই রাতেই আলাদা হামলা চালানো হয় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি শেখ ফজলুল হক মণি এবং আত্মীয় আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায়। এতে নিহত হন শেখ মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, সেরনিয়াবাত পরিবারের সদস্য বেবী (১৪), আরিফ (১২), বাবু (৪), ভাগনে আবদুল নইম খান রিন্টু, ভাতিজা শহীদ সেরনিয়াবাতসহ আরও কয়েকজন।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও অবদান
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রজীবনে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়াকালীন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের কাছ থেকে রাজনীতির প্রেরণা পান।
পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলার অধিকার আদায়ে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি স্থাপন করে। জীবনের প্রায় ১৩ বছর কারাগারে কাটালেও তিনি জনগণের অধিকার আদায় থেকে সরে আসেননি।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন।”
জাতীয় শোক দিবসের পরিবর্তন
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১৫ আগস্ট ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে সরকারি ছুটি পালন করা হলেও, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দিবসের সরকারি স্বীকৃতি ও ছুটি বাতিল করেছে।”
এসসি//



