২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
সিইসি বলেন, “একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ শুরু করেছে। সামনে আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জ থাকবে—তবে আমরা তা মোকাবিলায় প্রস্তুত।” তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ইসি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এর একদিন আগেই (মঙ্গলবার), অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাব।”
তিনি আরও বলেন, রমজানের আগেই নির্বাচন শেষ করার ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশ একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে যেতে পারে।
ভাষণে ড. ইউনূস আরও জানান, এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে চায় সরকার। “আমরা চাই, দেশের বাইরে অবস্থানরত ভোটাররাও যেন তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি দ্রুত শুরু করা হবে,” বলেন তিনি।
সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো বিরতি থাকবে না। প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করবো।”
তিনি আরও বলেন, ইসি ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোতেও দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন এবং প্রবাসী ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সৈয়দ আসিফ আলী//এসসি//



