রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মৃত্যু আরও বাড়লো। এবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন মাইলস্টোন স্কুলের ইংলিশ মিডিয়াম প্রাইমারি সেকশনের শিক্ষিকা মাসুকা আক্তার (৩৭)। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে, যার মধ্যে ৯ জনই শিক্ষার্থী।”
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষিকা মাসুকা গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়।”
নিহত শিক্ষিকার পরিচয়
নিহত মাসুকার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানার মধ্যমেড্ডা গ্রামে। তিনি সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরীর কন্যা। মাসুকা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা এবং অবিবাহিত ছিলেন। জানাজা শেষে তাঁকে আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
তার বোন জামাই খলিলুর রহমান জানান, “মাসুকা মাইলস্টোন স্কুলের ইংলিশ মিডিয়াম প্রাইমারি সেকশনে শিক্ষকতা করতেন। বিমান বিধ্বস্তের দিন মাঠে ডিউটিতে ছিলেন, তখনই গুরুতর দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।”
এর আগে যারা প্রাণ হারিয়েছেন:
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এর আগে মারা গেছেন:
- তানভীর আহমেদ (অষ্টম শ্রেণি)
- আফনান ফাইয়াজ (সপ্তম শ্রেণি)
- মাহেরীন চৌধুরী (প্রাইমারি সেকশনের হেড কো-অর্ডিনেটর)
- আব্দুল্লাহ সামিন (ষষ্ঠ শ্রেণি)
- এরিকসন (১০০% দগ্ধ)
- আরিয়ান (৮৫% দগ্ধ)
- নাজিয়া (৯০% দগ্ধ)
- সায়ান ইউসুফ (৯৫% দগ্ধ)
- বাপ্পি (৯)
- জুনায়েদ (তৃতীয় শ্রেণি, ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু)
- এই ঘটনায় মাসুকা সহ জাতীয় বার্ন ও ঢাকা মেডিকেল ব্যার্ন
- মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ জনে।”
এ দুর্ঘটনায় এখনো ৪৪ জনের বেশি দগ্ধ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জাতীয় বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”
উল্লেখ্য, ২০ জুলাই দুপুরে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলসংলগ্ন একটি মাঠে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান (Fighterjet) বিধ্বস্ত হয়। তখন মাঠে চলছিল স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রম। দুর্ঘটনার পরপরই সেখানে আগুন ধরে যায় এবং বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দগ্ধ হন।সরকারি ও সামরিক পর্যায়ে এই দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে।”
এসসি//



