রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ‘মব’ বা জনরোষে সংঘটিত সহিংসতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মবে জড়িতরা যতই প্রভাবশালী বা শক্তিশালী হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি বলেন, “আগে এমন অনেক ঘটনা ঘটলেও তথ্য আমাদের হাতে পৌঁছাত না। কিন্তু এখন অপরাধ পর্যালোচনার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এক সময় মবের ঘটনা কমে এলেও সম্প্রতি কিছু এলাকায় এমন ঘটনা ফের ঘটছে। আমরা এখন এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারিতে আছি।”
রংপুরের সাম্প্রতিক এক ঘটনায় পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা আরও বলেন, “যে অন্যায় করবে, সে আর এলাকায় থাকতে পারবে না। সময় লাগলেও তাকে খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও কেউ মবে জড়িত থাকলে, তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “নির্বাচন শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত মাঠে থাকা ও জনগণের সঙ্গে যুক্ত থাকা। অভিযোগের রাজনীতি না করে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। সরকার ও প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে জবাব দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন,
“নির্বাচন কমিশন প্রিসাইডিং অফিসার নিয়ন্ত্রণ করে, রিটার্নিং অফিসার আসে প্রশাসন থেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আমাদের কাজ, কিন্তু নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব তাদের, যারা নির্বাচন করবে।”
এসসি//



