রাজধানীর বিজয় সরণিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যসহ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল থেকে ভাঙার কাজ শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে সাতটি দেয়ালসহ পুরো এলাকা সমান করা হয়।”
ডিএনসিসি জানিয়েছে, এলাকাটিকে উন্মুক্ত গণস্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তবে এরই মধ্যে ‘গণমিনার’ নির্মাণের ঘোষণা আসায় নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে।”
🏛️ ভাস্কর্য ভাঙার ইতিহাস ও সময়কাল
২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর উদ্বোধন করেন, যেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সাতটি পর্বের চিত্রিত দেয়াল ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর আজ (২৭ জুন) বাকি অংশও ভাঙা হলো।”
🏗️ ‘গণমিনার’ নির্মাণের ঘোষণা
ঢাকার বিজয় সরণিতে নতুন করে ‘গণমিনার’ নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছে ‘গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটি’। ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।”
📢 জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্মারক
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম জানান, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ শহীদ ও হাজার হাজার আহত মানুষ ছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতেই ‘গণমিনার’ নির্মাণ করা হচ্ছে।” কমিটি জানিয়েছে, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই একটি দৃশ্যমান কাঠামো উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
🧱 বহু ধাপে বাস্তবায়িত হবে প্রকল্প
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম জানান, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি মিনার নয়, বরং পুরো বিজয় সরণি এলাকাকে ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষণ করা। প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “গণচাঁদা সংগ্রহের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হবে।”
📱 সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া
‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভাঙা নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠে। অনেকে একে ইতিহাস ধ্বংসের উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন, আবার কেউ কেউ নতুন উদ্যোগকে স্বাগতও জানান।”
এসসি//



