◆দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিতর্ক অবশেষে যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ সোমবার কুমিল্লায় শুরু হচ্ছে প্রথম দফার শুনানি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করা হবে।''
▪সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৮ হাজার ৫০ জনে। এতে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার বাড়তি মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে।’
👉 ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে বিশাল আর্থিক ক্ষতি
▪বর্তমানে প্রতিজন মুক্তিযোদ্ধা মাসে ২০ হাজার টাকা সম্মানি পান। এছাড়া ঈদ ও জাতীয় দিবসে বাড়তি ভাতা মিলে একজন মুক্তিযোদ্ধা বছরে সর্বনিম্ন ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা পান। এই হিসাবে শুধু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি হয় প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা। যুদ্ধাহত ও খেতাবপ্রাপ্তরা পান আরও বেশি অর্থ।’
🎯 চাকরি, গেজেট ও মামলার হালচিত্র
- মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৩৫ জন
- এখন পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭১৯টি
- বয়সসীমা অতিক্রম করায় বাতিল হয়েছে ২ হাজার ১১১ জনের সনদ
- বিগত ১৫ বছরে বাতিল হয়েছে মোট ৩৯২৬ মুক্তিযোদ্ধার গেজেট
⚖️ যাচাই-বাছাইয়ে মাঠে নামছে জামুকা
জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন বলেন, “ঢাকায় বসে যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই আমরা সরাসরি জেলার মাঠপর্যায়ে যাচ্ছি।” আজ কুমিল্লা সার্কিট হাউজে সকাল ১০টা থেকে প্রথম দফার শুনানি শুরু হবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ধাপে ধাপে এই অভিযান চলবে।
📢 কেন এই উদ্যোগ?
▪২০২৪ সালের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই সারাদেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিতকরণে গতি পায়।’
এসসি//



