ঢাকার আদাবরের নবোদয় হাউসিং এলাকায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এক সালিশ বৈঠকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইব্রাহিম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে আহত হয়েছেন অভিযুক্ত দুই ভাই রুবেল (৩৫) ও সজীব (৩২)। ঘটনাস্থল থেকে একটি মার্কিন তৈরি ৭.৬৫ মডেলের পিস্তল, তিন রাউন্ড তাজা গুলি এবং গুলির খোসা ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।”
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নবোদয় হাউসিংয়ের ৭ নম্বর রোডে এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইব্রাহিমকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
নিহত ইব্রাহিম পেশায় গাড়িচালক ছিলেন এবং নবোদয় হাউসিংয়ের ৬/এ রোডের ১০ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার মুজিবনগর এলাকায়। তিনি কালু শিকদারের ছেলে।”

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইব্রাহিমের ভাতিজা সজীব ও রুবেলের ডিমের আড়তে কাজ করতো। সম্প্রতি কিছু দায়দেনা ও হিসাব সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হলে বৃহস্পতিবার তারা বিষয়টি মীমাংসার জন্য একটি ইন্টারনেট ক্যাফেতে বসে। সালিশ চলাকালীন তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে সজীব কোমর থেকে একটি পিস্তল বের করে ইব্রাহিমের বুকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।”
এই ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা সজীব ও রুবেলকে ধরে পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে দুই অভিযুক্তকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়। আহত অবস্থায় দুজনকেই আদাবর থানায় হস্তান্তর করা হয়।”
ঘটনার বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, “নিহত ইব্রাহিম পেশায় গাড়ি চালক ছিলেন। তার ভাতিজা রুবেল ও সজীবের ডিমের আড়তে কাজ করতেন। ব্যবসায়িক হিসাবের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।”
তিনি আরও জানান, “ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ইব্রাহিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”
এসসি//



