চিকিৎসাধীন ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলের পাশে থাকতে ঈশ্বরদী থেকে ঢাকায় এসেছিলেন জহিরুল হক (৫২)। আট মাস ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছেলের সেবা করে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এই সংগ্রামী বাবা।
বকশীবাজার মোড় এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় ‘মৌমিতা’ পরিবহনের দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন জহিরুল। পরে পথচারীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
“বাবা ছিলেন আমাদের সবকিছু…”
নিহত জহিরুল হকের বড় ছেলে রিফাত হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাই রিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত। বাবা ব্যবসা ছেড়ে তার সেবা করছিলেন। রাতে একটু হাঁটতে বের হয়েছিলেন, কিন্তু মৌমিতার দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে মারা যান। এখন ভাইয়ের চিকিৎসা ও আমার লেখাপড়া কীভাবে চালাবো জানি না। আমরা গরিব পরিবার, বাবা ছিলেন সবকিছু।”
তিনি রাষ্ট্রপক্ষের কাছে অনুরোধ করেন, “আমার বাবার মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। সেইসাথে আমাদের মতো পরিবার যেন অনিশ্চয়তায় না পড়ে, সেই সহায়তা চাই।”
📸 সন্তানের চিকিৎসা শেষ না করেই চলে গেলেন বাবা
নিহতের নিকটাত্মীয় খন্দকার নাজমুল আলম জানান, জহিরুল হক পাবনার ঈশ্বরদীর বাসিন্দা। তার মুদি দোকান ছিল, যা বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতেন। “দুঃখের বিষয়, সন্তানের চিকিৎসা শেষ করার আগেই বাবাকে জীবন দিতে হলো। এখন পুরো পরিবার অনিশ্চয়তায় ভুগছে।”
📍 মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন হাসপাতাল গেটে… হুইলচেয়ারে ক্যান্সার আক্রান্ত রিহান
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে মরদেহ হস্তান্তরের সময় ক্যান্সার আক্রান্ত ১৩ বছর বয়সী রিহানকে হুইলচেয়ারে নিয়ে আসা হয়। বাবার মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। চোখের সামনে বাবাকে হারানোর দৃশ্য দেখে হাসপাতালে থাকা সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।”
🚨 বাস আটক, চালক গ্রেপ্তার
ঘটনার বিষয়ে চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল ইসলাম জানান,
“খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে যাই। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গেরপাঠানো হয়। পরবর্তীতে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”
তিনি আরও জানান, “ঘটনার সাথে জড়িত ‘মৌমিতা’ পরিবহনের দুইটি বাস আটক করা হয়েছে। ঘাতক দুই চালককেও গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এসসি//



