মাত্র দুদিন আগেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় তাদের হাসিমুখে আলাপচারিতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং অনেকেই একে ওয়াশিংটনের বাইরে একটি সম্ভাব্য ‘নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার’ সূচনা হিসেবে দেখেছিলেন।
কিন্তু বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন না মোদি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এ অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারত–চীন সম্পর্ক এখনো জটিল সমীকরণে আবদ্ধ।”
জটিল বাস্তবতা ও বাণিজ্য সংকট
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে ভারতের অস্বীকৃতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিল্লির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যার মধ্যে ২৫ শতাংশকে জরিমানা হিসেবে ধরা হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ ভারত–চীন শান্তি আলোচনাকে আরও জরুরি করে তুললেও দুই দেশের মধ্যে এখনো অনেক অমীমাংসিত সমস্যা রয়ে গেছে।”
ভারত–চীন বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে প্রায় ৯৯ বিলিয়ন ডলার, যা দিল্লিকে গভীরভাবে চিন্তিত করছে। এছাড়া, একে অপরের পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপও সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।”
গালওয়ান সংঘর্ষের প্রভাব
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে ভারতীয় জনগণের মধ্যে চীনের বিরুদ্ধে প্রবল রোষ তৈরি হয়। ফলে এখনো চীনের সামরিক শক্তির প্রশংসা করার মতো মানসিকতা তৈরি হয়নি। বরং দিল্লি সম্প্রতি উদ্বেগ জানিয়েছে— পাকিস্তান যে অস্ত্র সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ব্যবহার করেছে, তার বেশিরভাগই এসেছে চীন থেকে।”
মোদির হিসাব-নিকাশ
বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি–বেইজিং সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এখনো সময় লাগবে। ট্রাম্পের মতো ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’র অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ ভারতের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আনলেও চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ না নেওয়ার মাধ্যমে মোদি একটি ‘সতর্ক বার্তা’ দিয়েছেন।”
অন্যদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে— এ সিদ্ধান্ত মোদির কূটনৈতিক কৌশলেরই অংশ। দিল্লি হয়তো এখনও সম্পর্ক মজবুত করতে প্রস্তুত নয়, বরং সাম্প্রতিক ক্ষত মেটাতেই ব্যস্ত।”
এসসি//



