রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘মহামহিম প্রধানমন্ত্রীজি’ এবং ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন। চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের সাইডলাইনে সোমবার দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। খবর এনডিটিভির।
পুতিন বলেন, “মহামহিম প্রধানমন্ত্রী এবং প্রিয় বন্ধু, ২১ ডিসেম্বর পূর্ণ হবে ভারত-রাশিয়ার বিশেষ ও সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারত্বের ১৫ বছর। আমাদের সম্পর্ক বহুমুখী, নীতিনিষ্ঠ এবং বহুদিক দিয়ে বিস্তৃত। আপনার সঙ্গে দেখা করে আমি আনন্দিত। আজকের বৈঠক আমাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।”
উষ্ণ অভ্যর্থনা ও দীর্ঘ আলোচনা
সম্মেলনস্থলে পৌঁছালে পুতিন ও মোদি করমর্দন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা বিনিময় করেন। সূত্র জানায়, বৈঠকের আগে পুতিন প্রায় ১০ মিনিট মোদির জন্য অপেক্ষা করেন। পরে গাড়ির ভেতরেই প্রায় এক ঘণ্টা দুই নেতার মধ্যে আলোচনা চলে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “পুতিনের সঙ্গে ভ্রমণের সময়ের আলাপ সবসময় গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়।”
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, সার, মহাকাশ, নিরাপত্তা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা।’
এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের প্রেক্ষাপটে। রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির ওপর এ শুল্ক আরোপ করেছে।
মোদির প্রতিক্রিয়া
বৈঠককে ‘চমৎকার’ আখ্যা দিয়ে মোদি বলেন, “ভারত-রাশিয়ার বিশেষ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।”
তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করল। বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হওয়ায় বৈঠকটি আন্তর্জাতিক পরিসরে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এসসি//



