আলাস্কায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কিছু “বোঝাপড়ায়” পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবেন কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পুতিনের বক্তব্য
চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে বক্তব্য দিয়ে পুতিন বলেন, “আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে আমাদের যে বোঝাপড়া হয়েছে, আমি আশা করি তা ইউক্রেনে শান্তির পথ খুলে দেবে।” তিনি আবারও দাবি করেন, এই যুদ্ধ রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে নয়; বরং পশ্চিমাদের সমর্থনে ইউক্রেনের অভ্যুত্থান এবং ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা থেকেই সংকট শুরু।’
পুতিন একইসঙ্গে চীন ও ভারতের নেতাদের ধন্যবাদ জানান, যারা ইউক্রেন সংকট সমাধানে সহায়তা করার চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বর্তমানে চীন ও ভারত, যা পশ্চিমাদের মতে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে।’
ট্রাম্পের অবস্থান
ট্রাম্প আগেও দাবি করেছিলেন, চাইলে তিনি একদিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। গত মাসে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি যুদ্ধবিরতির দাবি সরিয়ে রেখে স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রস্তাব দেন। তার পরিকল্পনায় রয়েছে—
- ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেবে না।
- ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
- ইউরোপকে “প্রথম প্রতিরক্ষার সারি” হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সিএনএনকে বলেন, পুতিনও ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় সম্মত হয়েছেন। অর্থাৎ ইউক্রেন আক্রান্ত হলে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত থাকবে।
জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার খসড়া এই সপ্তাহেই আসতে পারে। তবে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে কোনো “বাফার জোন” প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার অভিযোগ, রাশিয়া কূটনীতির জন্য নয়, বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য নতুন ফন্দি করছে।’
ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেছেন, যদি পুতিন ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলোচনায় না বসেন, তবে তা প্রমাণ করবে তিনি ট্রাম্পকে আবারও “প্রতারিত” করেছেন। তবে ট্রাম্প পরে বলেন, পুতিনকে তিনি আরও কয়েক সপ্তাহ সময় দিচ্ছেন, নইলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে।’
রাশিয়ার তীব্র হামলা
এদিকে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে বড় আকারের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে মস্কো ৬২৯টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যাতে অন্তত ২৩ জন নিহত হন। এটি যুদ্ধের অন্যতম বৃহৎ আকাশ হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঘটনাটিতে ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
সারসংক্ষেপ
আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধে সম্ভাব্য সমাধানের ইঙ্গিত দিলেও এখনও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত। ট্রাম্প শান্তি চুক্তির খসড়া নিয়ে আশাবাদী হলেও জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রতি অবিশ্বাসী। একই সময়ে রাশিয়ার অব্যাহত হামলা ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও ক্ষুব্ধ করছে।’
এসসি//



