বিদেশে উন্নত জীবনযাপন, উচ্চশিক্ষা বা কর্মসংস্থানের আশায় প্রতিবছর হাজারো মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এবার নতুন বাধা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) নতুন নীতিমালা জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে— কোনো আবেদনকারীকে যদি ‘আমেরিকাবিরোধী’ মনে হয়, তবে তার ভিসা আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও থাকবে নজরদারিতে
হালনাগাদ নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনকারীর শুধু শিক্ষাগত বা পেশাগত তথ্যই নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া মতামতও খুঁটিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে— আমেরিকা-বিরোধী বক্তব্য, ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাব, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে ভিসা পাওয়া কঠিন হবে।
আমেরিকাবিরোধী শব্দের সংজ্ঞা অস্পষ্ট
নীতিমালায় ‘আমেরিকাবিরোধী’ শব্দের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে ১৯৫২ সালের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনে উল্লেখ আছে— যারা সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সদস্য, মার্কিন সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেন, কিংবা সহিংস উপায়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন, তাদের আমেরিকাবিরোধী হিসেবে ধরা হবে।
সমালোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে
এই অস্পষ্ট সংজ্ঞা নিয়ে আইনজীবী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কর্মকর্তারা চাইলে একপাক্ষিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা আবেদনকারীদের জন্য অন্যায় হতে পারে।
মার্কিন অভিবাসন কাউন্সিলের ফেলো অ্যারন রেইখলিন-মেলনিক বলেন, “এটি অনেকটা ম্যাককার্থিইজম যুগের মতো (১৯৫০ দশক), যখন সমাজতন্ত্রের অভিযোগে বহু মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছিল।”
বাতিল হচ্ছে হাজারো ভিসা
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরেই ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করা হয়েছে। জুন মাসে দপ্তর জানায়— কেউ যদি মার্কিন সংস্কৃতি, সরকার বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করে, তার আবেদন বাতিল হবে।
ইউএসসিআইএস মুখপাত্র ম্যাথু ট্রাগেসার বলেন, “যারা আমেরিকাকে ঘৃণা করে, তাদের আমেরিকার সুফল ভোগের সুযোগ দেওয়া হবে না।”



