উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্ব ত্রিপোলি এলাকায় বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে অন্তত ১,৫০০ অনিবন্ধিত অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার এই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
লিবিয়ার শ্রমমন্ত্রী আলী আল-আবেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, তল্লাশির সময় দেখা যায়, ওই এলাকায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিভিন্ন দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা বসবাস করছেন। তাদের অনেকের কাছে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কাগজ কিংবা আবাসনের অনুমতিপত্রও নেই।
ত্রিপোলির পূর্বে যেখান থেকে অভিবাসীদের আটক করা হয়, সেটি ছিল উচ্চ প্রাচীরঘেরা একটি অস্থায়ী শিবির। শিবিরটিতে মিসরীয় ও সাব-সাহারান আফ্রিকার অভিবাসীরা বসবাস করতেন। সেখানে ছোট মুদি দোকান, মাংস ও সবজির দোকানও ছিল, যা মূলত অভ্যন্তরীণ একটি ক্ষুদ্র বাজার তৈরির ইঙ্গিত দেয়।
লিবিয়ার শ্রমমন্ত্রী বলেন, “এই শিবিরে মানব বসবাসের উপযুক্ত ন্যূনতম মানদণ্ড মানা হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা, কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট।”
আটক অভিবাসীদের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে কর্নেল গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়ায় চলছে দ্বিধাবিভক্ত শাসন। একটি অংশ ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার, অপরটি পূর্বাঞ্চলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এর প্রেক্ষাপটে দেশটি ইউরোপগামী অভিবাসীদের ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবছর হাজার হাজার অভিবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, যার বড় একটি অংশ লিবিয়ার উপকূল থেকে যাত্রা করেন।
এদিকে, চলতি জুলাই মাসের শুরুতে ইইউ কমিশনার এবং গ্রিস, ইতালি ও মাল্টার প্রতিনিধিরা লিবিয়া সফর করেন। ওই সফরে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে লিবিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়।
তবে আটক অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান দেয়নি।
সূত্র : এএফপি
এসসি//



