ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ-কে ‘পুরুষ’ হিসেবে উপস্থাপন করায় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার ক্যানডেস ওয়েন্স-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার রাজ্যে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ম্যাক্রোঁ দম্পতির আইনজীবী টম ক্লেয়ার।
ক্যানডেস ওয়েন্স, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে একজন ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত, একাধিকবার ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, ফরাসি প্রেসিডেন্টের স্ত্রী একজন “পুরুষ”।
এই ধরনের ভিত্তিহীন ও অপমানজনক মন্তব্য পুনরায় প্রচার করার পর, ম্যাক্রোঁ দম্পতির পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আইনজীবী টম ক্লেয়ার বলেন,
“এ ধরনের ভুয়া ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আমরা পূর্বে তার সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের মামলা করতেই হলো।”
মামলায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে:
- ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ নারী হিসেবে জন্মেছেন।
- নারী হিসেবে বেড়ে উঠেছেন এবং সবসময় নারী ছিলেন।
এই ধরনের ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে তার সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে মামলায়।
ক্যানডেস ওয়েন্সের ইউটিউব চ্যানেলে বর্তমানে ৪৫ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।
তিনি অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কিত ও অপমানজনক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ ২০০৭ সাল থেকে বিবাহিত। ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই মামলা শুধুমাত্র একজন ফার্স্ট লেডির সম্মান রক্ষার বিষয় নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবের অপব্যবহার রোধ এবং অনলাইন হেইট স্পিচের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
সূএ:সিএনএন
এসসি//



