অক্টোবর ৭ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্ত্রী সামার মুহাম্মদ আবু জামার গোপনে গাজা থেকে পালিয়ে তুরস্কে নতুন করে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম Ynet।
সূত্র জানায়, আবু জামার গাজা ছেড়েছেন ভুয়া পাসপোর্ট ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ। অক্টোবর ২০২৪-এ ইসরায়েলি অভিযানে ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার কিছু মাস পর তিনি তুরস্কে আবার বিয়ে করেন।
গাজাভিত্তিক সূত্র জানায়, আবু জামারের পালিয়ে যাওয়া এবং তুরস্কে পুনর্বিবাহের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ফাতিহ হাম্মাদ। তিনি অতীতেও সন্ত্রাসীদের পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে হামলার কিছুক্ষণ আগে আবু জামারকে একটি হামাস টানেলের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়, যেখানে তার হাতে একটি বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ ছিল – যা নিয়ে ইসরায়েলে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়।
Ynet-কে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “সে আর এখানে নেই। সে রাফাহ সীমান্ত পার হয়েছে ভুয়া পাসপোর্টে। এটা ছিল উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ের ফল।”
সাধারণ গাজাবাসীরা যখন অবরুদ্ধ অবস্থায় বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন হামাস নেতৃবৃন্দ ও তাদের পরিবার গোপনে বিদেশে সরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোপন পাচার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই হামাস নেতাদের পরিবারকে গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে Ynet।
ইতোমধ্যেই মোহাম্মদ সিনওয়ারের স্ত্রী নাজওয়া সিনওয়ার-এর গাজা ত্যাগের তথ্যও ফাঁস হয়েছে।
গাজাবাসীদের মধ্যে হামাসের প্রতি ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“তারা তাদের সন্তানদের তুরস্ক আর কাতারে পড়তে পাঠায়, আর আমাদের সন্তানদের কবরস্থানে।
তারা আর আরব বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকদের থেকে কী আলাদা?”
বর্তমানে হামাসের সামরিক কাঠামো ছিন্নভিন্ন। অনুমান করা হচ্ছে, এখন ইয-আল-দিন আল-হাদ্দাদ একমাত্র জীবিত শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এখনও চললেও, হামাস এখন আর আগের মতো সংগঠিত সামরিক অভিযানে সক্ষম নয়।
দূরত্ব, বিচ্ছিন্ন নেতৃত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জিম্মি বিনিময় আলোচনাও জটিল হয়ে পড়েছে।
সূত্র : দ্যা টেলিগ্রাফ
এসসি//



