এক যুগের বেশি সময় ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে সিরিয়ার ওপর থেকে সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩০ জুন) এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
খবর: আনাদোলু এজেন্সি।
🏛️ হোয়াইট হাউসের বার্তা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ঘোষণায় বলেন,
“আমি সিরিয়ার ওপর থেকে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেছি। আমরা একটি স্থিতিশীল, ঐক্যবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও সন্ত্রাসমুক্ত সিরিয়া দেখতে চাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই যাতে সহাবস্থান করতে পারে—এমন একটি সমাজ গঠনে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার পাশে থাকবে।”
🤝 সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানান,
“সৌদি সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি আজ বাস্তবায়িত হলো। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার উন্নয়ন ও শান্তি প্রচেষ্টায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”
🕌 সৌদি সফর ও সিরীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক
গত মাসে সৌদি আরব সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল শারার সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে আলোচনা হয়:
- সিরিয়ার পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়ন
- জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ
- সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই
📜 নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস
সিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসে ২০১১ সালে, গৃহযুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে।
মূল অভিযোগগুলো ছিল:
- রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার
- রাজনৈতিক দমন-পীড়ন
- বাশার আল-আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
🔄 নতুন সরকার, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
২০২৩ সালে সিরিয়ার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল শারার ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোভাবেও পরিবর্তন দেখা যায়।”
এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আজকের সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে।”
🌍 ভূরাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার:
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক
- আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত
- সিরিয়ার বৈশ্বিক পুনঃঅন্তর্ভুক্তি এবং পুনর্গঠনে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াবে
এসসি//



