যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে বড় আইনি ও নীতিগত পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশে তিনি ঘোষণা করেন, অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানরা আর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবেন না।
📜 কী বলছে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ?
এই আদেশে বলা হয়েছে,
২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন শিশুদের—যাদের বাবা-মা অবৈধভাবে বা ছাত্র, পর্যটক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অস্থায়ী ভিসায় দেশটিতে আছেন—তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে না।
এই সিদ্ধান্ত প্রথম থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। ২২টি অঙ্গরাজ্য আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।
⚖️ সুপ্রিম কোর্টের রায়: আংশিক অনুমোদন
২৭ জুন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়,
“যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালতগুলো আর দেশব্যাপী কোনো নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে না। তারা শুধু সংশ্লিষ্ট মামলার পক্ষেই রায় দিতে পারবে।”
এই রায়ের ফলে, বর্তমানে ২৮টি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের আদেশ কার্যকর হবে, যেখানে কোনো মামলা হয়নি। বাকি ২২ রাজ্যে আদেশ আপাতত স্থগিত।”
💬 ট্রাম্পের ব্যাখ্যা: “এটি ছিল ক্রীতদাস সন্তানদের জন্য, অভিবাসীদের জন্য নয়”
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,
“জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্রীতদাসদের সন্তানদের সুরক্ষা দেওয়া—not global migration।”
“অযোগ্য অভিবাসী ও তাদের শিশুদের নাগরিকত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দখল করতে দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে শতভাগ। এটি দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত।”
ফেডারেল আদালত শুরুতে আদেশটি স্থগিত করলেও, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষেই আংশিক সুবিধা গেছে।”
বর্তমানে ২২টি অঙ্গরাজ্যে আদেশ স্থগিত, তবে ২৮টি রাজ্যে এই পরিবর্তন সম্পূর্ণ কার্যকর।”
🌎 বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তে মানবাধিকার সংস্থা ও অভিবাসী অধিকার গ্রুপগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে,
“এই আইন মানবাধিকার পরিপন্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ঐতিহ্যের পরিপূর্ণ বিরোধী।”
অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থকেরা বলছেন,
“এর ফলে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকত্বের অপব্যবহার রোধে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।”
এসসি//



