সাম্প্রতিক ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ঝুঁকি মোকাবিলায় স্টারলিংকসহ যেকোনো অনুমোদনহীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ও বৈদ্যুতিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর আইন পাস করেছে ইরান। নতুন আইনে এমন প্রযুক্তি ব্যবহারে কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।”
📡 মনিটরবিহীন ইন্টারনেট ব্যবহারে উদ্বেগ
১২ দিনের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানে ব্যাপকভাবে স্টারলিংক টার্মিনাল পাচার হয়েছিল বলে জানা গেছে। ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, এসব মনিটরবিহীন টার্মিনাল ব্যবহার করে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ভেতরের তথ্য পাচার এবং সাইবার হামলা পরিচালনা করতে পারে।
🏛️ নতুন আইন ও শাস্তির ধারা
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, গত ২৩ জুন পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই আইনটির নাম:
‘গোয়েন্দাগিরি, ইসরায়েল ও শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থের বিরুদ্ধে অপরাধের শাস্তি বৃদ্ধিকরণ আইন’।
আইন অনুসারে:
- অনুমোদনহীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা প্রযুক্তির ব্যবহার একটি জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অপরাধ
- ইসরায়েল বা ‘শত্রু রাষ্ট্রের’ সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সংযোগ বা সহযোগিতা হলে “পৃথিবীতে দুর্নীতি” (فساد فی الارض) বলে বিবেচিত হবে
- এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যু
📦 স্টারলিংক টার্মিনাল পাচারের অভিযোগ
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালীন সময় হাজার হাজার স্টারলিংক ডিভাইস চোরাই পথে ইরানে প্রবেশ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল— ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময় জনগণের বিকল্প সংযোগ নিশ্চিত করা। তবে ইরান সরকার এটিকে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম ও বিদেশি গোয়েন্দা যোগাযোগের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।”
🔐 জাতীয় নিরাপত্তা বনাম তথ্য অধিকার
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই আইনের মাধ্যমে ইরান সরকার তথ্য নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন সংবাদ প্রচার ও নাগরিক অধিকার হরণে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।”
এসসি//



