মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরান দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের একটি উন্নতমানের হার্মেস-৯০০ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, এই ঘটনা ঘটেছে দেশটির মধ্যাঞ্চলে, যেখানে ইসরায়েল গোপনে একটি হামলা চালায়।’
রোববার (২২ জুন) রাতে ইসরায়েল জানায়, তারা ইরানের গ্রাউন্ড টু এয়ার মিসাইল লঞ্চার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার পর তাদের সব বিমান নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। তবে ইরান জানায়, হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোন শনাক্ত করে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।”
☢ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা: পরমাণু কেন্দ্রে আঘাত
এর আগে ১৩ জুন থেকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ধারা শুরু হয়। সর্বশেষ জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায়—ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান—একযোগে হামলা চালিয়েছে।”
হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, এই অভিযানে তাদের আগে থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় ছিল। একইসঙ্গে ইসরায়েলি বিমান এবং মিসাইল ইউনিট আলাদাভাবে ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।”
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসে বাংকার বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ফোরদোর গভীর সুরক্ষিত স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়ে।”
🔬 ইরান: পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ হবে না
এই হামলার জবাবে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, তারা কোনো চাপের মুখে কর্মসূচি বন্ধ করবে না। বরং ফোরদো থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।”
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) নিশ্চিত করেছে, এখন পর্যন্ত ওইসব স্থাপনার আশপাশে বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।”
🌍 উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে
এই পরিস্থিতিতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। একদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত হামলা, অন্যদিকে ইরানের প্রতিরোধ যুদ্ধ — এতে করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ নেই।
সূত্র: আলজাজিরা
এসসি//



