মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে অফিস খালি করতে বলেছে ইরান। ইরানের দাবি, চ্যানেলটি ইরানবিরোধী ভুয়া তথ্য প্রচার করছে এবং এটি এখন তেহরানের টার্গেট লিস্টে রয়েছে। যেকোনো সময় চ্যানেলটির ওপর হামলা চালানো হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরানি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র।
ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, চ্যানেল ১৪ এর অফিস নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে, এবং তেহরান কর্তৃপক্ষ এই চ্যানেলকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে।
🗣️ যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর নীতি নিয়ে বিতর্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধমুখী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু ২০০২ সালে যেমন ভুল করেছিলেন, এবারও তেমনি মারাত্মক ভুল করছেন।”
- স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০২ সালে ইরাক যুদ্ধের আগে নেতানিয়াহু কংগ্রেসে বলেছিলেন, “সাদ্দাম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছেন—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”
এই বক্তব্যের ভিত্তিতে শুরু হয় ইরাক যুদ্ধ, যার ভয়াবহতা সম্পর্কে স্যান্ডার্স বলেন, “৪ হাজার ৪৯২ মার্কিন সেনা নিহত হন, আহত হন ৩২ হাজারের বেশি। ব্যয় হয় প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলার এবং প্রাণ হারান লাখো নিরীহ ইরাকি।”
⚠️ ইরানের বিরুদ্ধে একই ভুল?
স্যান্ডার্সের দাবি, এখন ইরান ইস্যুতেও নেতানিয়াহু একই ধরনের যুদ্ধোন্মাদ কৌশল নিচ্ছেন, আর সেই পথে যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমাদের উচিত নয় সেই পুরনো ভুল পথ আবার অনুসরণ করা। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর যুদ্ধে জড়াব না।”
🕊️ যুক্তরাষ্ট্রে কূটনৈতিক সমাধানের ডাক
স্যান্ডার্সের এ মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে বাইডেন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিপরীতে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে শান্তিপন্থী অংশ এখন কূটনীতির পক্ষে সুর উঁচু করছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সমাধান আসবে যুদ্ধ থেকে নয়, বরং কূটনীতির মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক পথ বেছে নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বৃহৎ কৌশলগত পরিণতির কথা বিবেচনায় নেওয়া, যাতে শুধু ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যই নয়, মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কাও এড়ানো যায়।”
এসসি//



