দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যৌথ কংগ্রেস ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প চমকপ্রদ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের কাবুল বিমানবন্দরের অ্যাবে গেটে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আইএস সদস্যকে পাকিস্তানের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এর কয়েকদিন পরেই, ১৮ জুন, হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প—যা পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে একটি ইতিহাসগত মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।’
🇵🇰 কূটনৈতিক টার্নিং পয়েন্ট?
মাত্র সাত বছর আগে পাকিস্তানকে ‘মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয়দাতা’ বলে অভিহিত করেছিলেন ট্রাম্প। অথচ এবার তিনি পাকিস্তানকে তুলে ধরলেন একটি “গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহযোগী” হিসেবে।
নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রেজা আহমাদ রুমি বলেন, “এই বৈঠক কেবল নিয়ম ভাঙা নয়, বরং নিয়ম নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার বার্তা। পাকিস্তান এখন শুধু নজরদারির আওতায় নয়, বরং ওয়াশিংটনের ‘ইনার সার্কেলে’ ঢুকে পড়েছে।”
⚔️ যুদ্ধের পটভূমিতে নতুন বার্তা
এই ঐতিহাসিক বৈঠক এমন সময়ে হলো, যখন ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে অন্তত ২০০ জন নিহত এবং ইরানের পাল্টা হামলায় আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৯০০ কিমি দীর্ঘ ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব ফেলছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা রাজনীতিতে।’
তবে ট্রাম্প জানান, জেনারেল মুনিরকে আমন্ত্রণের মূল কারণ ছিল কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাব্য যুদ্ধ ঠেকানোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন।
মে মাসে দুই দেশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সময় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ট্রাম্প প্রশাসন এর পুরো কৃতিত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান সেনাপ্রধানকে।
💬 বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো মারভিন ওয়েইনবাউম বলেন, “পাকিস্তান এখন ট্রাম্প প্রশাসন থেকে যে শ্রদ্ধা পাচ্ছে, তা বাইডেন সরকারের সময় কখনোই দেখা যায়নি। এই সম্পর্কের সঙ্গে এসেছে রেয়ার আর্থ মিনারেল, শুল্কমুক্ত সুবিধা ও ক্রিপ্টো ইনভেস্টমেন্ট—সবই পাকিস্তানকে উপকৃত করছে।”
অ্যারিফ আনসার, পরিট্যাক্ট বিশ্লেষক বলেন, “যুদ্ধের সময় কৌশলগতভাবে দুর্বলতা সত্ত্বেও পাকিস্তান ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে অতীতে এমন সম্পর্ক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ডেকে এনেছে।”
🗳️ সামরিক সম্পর্ক বনাম গণতন্ত্র?
এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ঘিরে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:
এটি কি নতুন সামরিক জোটের সূচনা, নাকি গণতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতার সঙ্গে লেনদেন?
অধ্যাপক রেজা রুমি বলেন, “এই বৈঠক প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের মূল ভিত্তি এখনো সেনাবাহিনী। বেসামরিক সরকার কার্যত নির্বিকার।”
ওয়েইনবাউম আরও সতর্ক করে বলেন, “এই প্রশাসনে কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। আজ যা গুরুত্বপূর্ণ, আগামীকাল তা নাও থাকতে পারে।”
🌍 চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: চীন না যুক্তরাষ্ট্র?
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখন দাঁড়িয়ে আছে এক বড় ভূরাজনৈতিক প্রশ্নের মুখে—
চীন না যুক্তরাষ্ট্র?
এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইরানের ভূমিকায় এবং কাশ্মীর সংকট কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর।’
এসসি//



