মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত। গত এক সপ্তাহ ধরে এই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল। এমন প্রেক্ষাপটে এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।”
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সিএনএন জানায়, ”ইরান এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের দিকে প্রায় ৪০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ড্রোন ছুঁড়েছে। এই হামলাগুলো শুরু হয় গত শুক্রবার থেকে, যখন সংঘাতের সর্বশেষ ধাপ সূচিত হয়।”
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ‘এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ইসরায়েলের বেসামরিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত ২৪ জন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক সদস্য—উভয়ই।’
এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) দাবি করেছে, তারা ‘ট্রু প্রমিজ ৩’ নামে একটি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ‘সেজিল-২’ নামের দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।’
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অতি ভারী ও দীর্ঘপাল্লার ‘সেজিল-২’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ট্রু প্রমিজ ৩-এর দ্বাদশ তরঙ্গের হামলা শুরু হয়েছে।”
সেজিল-২ হচ্ছে ইরানের নিজস্বভাবে নির্মিত দ্বৈত-পর্যায়ের কঠিন জ্বালানির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার। এটি ইসরায়েলের গভীর অভ্যন্তরেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।’
তবে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।’
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ‘যদি এই সংঘাত অব্যাহত থাকে, তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও বহু শক্তিধর দেশ সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।”
এসসি//



