‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে ইরানি জনগণ ও সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ।‘
বুধবার (১৮ জুন) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে টেলিফোন আলাপে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এ বার্তা দেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।”
আলাপে ইশাক দার বলেন, “পাকিস্তান সবসময় ইরানি জনগণ ও সরকারের পাশে রয়েছে। বর্তমান সংকটে আমরা ইরানের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই।”
জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তানের এ সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি ইশাক দারকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার বিস্তারিত জানান।”
তিনি বলেন, “ইসরায়েল সাধারণ মানুষের আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্রকে নিশানা করেছে। এসব হামলায় বহু নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।”
আরাকচি আরও বলেন, “ইহুদিবাদী শাসনের আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী নীতি এ অঞ্চলের অস্থিরতার মূল উৎস। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এসব অপরাধের তীব্র প্রতিবাদ জানানো।”
তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইসরায়েলের নির্লজ্জ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং হামলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
আলাপে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্মত হন—আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কাঠামোর শক্তি কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ নীতির মোকাবিলা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইরান ইতোমধ্যে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিশোধ নিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রায় ৫০ জন বেসামরিক নারী-শিশু।”
বিশ্লেষকদের মতে, ”এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং এর প্রভাব গোটা বিশ্বে পড়তে পারে।”
এসসি//



