ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইসরায়েল বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (১৮ জুন) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা অনেক গুরুতর ও বেদনাদায়ক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছি। ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক বাহিনী উভয়ই চলমান মিসাইল হামলা এবং সহিংসতার মধ্য দিয়ে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে, কিন্তু হামলার মাত্রা এবং ব্যাপ্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
🔥 ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তপ্ত তেল আবিব
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব হামলার পরপরই তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। বহু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যায়।
এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, “ইসরায়েলের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।”
🧨 সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে
যদিও এই মুহূর্তে হতাহতের বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় এক বড় ধরনের মোড় নিয়ে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক হামিদ কারামি বলেন, “এটি আর শুধু কথার যুদ্ধ নয়। এখন একাধিক সামরিক ফ্রন্টে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়ে গেছে। একপক্ষের আক্রমণ আরেক পক্ষের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এই সংঘর্ষ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।”
নেতানিয়াহু তার ভাষণে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েল এই ক্ষয়ক্ষতির জবাব দেবে। তিনি বলেন, ”ইরান ও ইসরায়েলের এই চলমান সংঘাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। একদিকে ইসরায়েল বলছে তারা আক্রান্ত, অন্যদিকে ইরান বলছে তারা আত্মরক্ষায় জবাব দিচ্ছে। এই অবস্থায় বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন) ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।”
এসসি//



