মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার (১৪ জুন) ইরান ও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক টেলিফোনে কথা বলেন। এই ফোনালাপে বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা আঞ্চলিক শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেয়।‘
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলার সময় ওয়াং ই বলেন, চীন ‘তেহরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায়’ সবসময় পাশে থাকবে। বেইজিং বিশ্বাস করে, একতরফা চাপ কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।’
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সাআরের সঙ্গে আলাপে ওয়াং ই বলেন, “চীন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের ওপর হামলার নীতিকে সমর্থন করে না। এটি আঞ্চলিক শান্তির জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ”চীনের এই কূটনৈতিক অবস্থান শুধু বক্তব্য নয়, বরং বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। যেখানে তারা সামরিক শক্তির পরিবর্তে সংলাপ, আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্ব দেয়।’
‘সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে চীন শান্তি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মার্চে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীন একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবারও বেইজিং সক্রিয়ভাবে সংঘাত প্রশমনে ভূমিকা রাখছে।’
বিশ্ব পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে চীনের এই অবস্থান ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হয়ে উঠবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।’
এসসি//



