পাকিস্তানের করাচির একটি কারাগার থেকে ভূমিকম্প-পরবর্তী বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে অন্তত ২১৩ বন্দি পালিয়ে গেছে, যা দেশটির সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় জেল পালানোর ঘটনা। সিন্ধু প্রদেশের মালির জেলা কারাগারে এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত।
সোমবার(২ জুন) রাতে একাধিক ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের কারণে জেল কর্তৃপক্ষ প্রায় ২,০০০ বন্দিকে খোলা জায়গায় বের করে আনে, যাতে তারা নিরাপদ থাকে। এই সিদ্ধান্তই কাল হয়ে দাঁড়ায়। বন্দিরা সংখ্যার জোরে প্রথমে কারারক্ষীদের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নেয়, এরপর শুরু হয় গোলাগুলি। এর মধ্যেই বন্দিরা মূল গেট খুলে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
সিন্ধুর আইনমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লানজার জানান, “ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বন্দিদের বাইরে আনা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটি পালানোর সুযোগে পরিণত হয়।”
সিন্ধু পুলিশের প্রধান গুলাম নবি মেমন জানিয়েছেন, বন্দিদের পালানোর সময় গোলাগুলির ঘটনায় এক বন্দি নিহত এবং তিন কারাকর্মী আহত হন। পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে বেশিরভাগই মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বা ছোটখাটো অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন।”
‘সাংবাদিকদের একাংশ জেলখানার ভেতরে গিয়ে দেখতে পান ভাঙা কাচ, ছিন্নভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং দর্শনার্থীদের কক্ষ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ভূমিকম্পের ধকল এবং পালানোর সময়কার হট্টগোলেই এই ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
”জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত বন্দিরা পালায়। এদের মধ্যে ৭৮ জনকে পুনরায় আটক করা সম্ভব হয়েছে।’
▪সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ বলেছেন, “সেল থেকে বন্দিদের বের করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল।” তিনি পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “না হলে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মামলা করা হবে।”
‘পাকিস্তানের এই কারাগার নিরাপত্তা সংকট শুধু দেশটির আইন-শৃঙ্খলার জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে। ঘটনাটি কারা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও দুর্যোগে প্রস্তুতির ঘাটতির উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।’
এসসি//



