দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র ভারতকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের এক নতুন অর্থনৈতিক চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়ার সহায়তায় পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে পাকিস্তান স্টিল মিলস (PSM)।
▪১৯৭৩ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় নির্মিত এই ইস্পাত কারখানাটি ২০১৫ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ২.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসানে পড়া এই প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে আধুনিকায়ন করতে একমত হয়েছে মস্কো ও ইসলামাবাদ।’
▪নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার দূত ডেনিস নাজারোভ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিশেষ সহকারী হারুন আখতার খানের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে করাচির উপকণ্ঠে মূল ১৯ হাজার একর জমির মধ্যে ৭০০ একরে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। দেশটির মজুদকৃত ১ বিলিয়ন টন লোহার আকরিক ব্যবহার করে অত্যাধুনিক রুশ প্রযুক্তিতে ইস্পাত উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান বছরে ইস্পাত আমদানির ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ কমাতে পারবে এবং বছরে ২.৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
▪বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘যদিও প্রকল্পটি অর্থনৈতিক বলে দাবি করছে রাশিয়া, তবুও এটি দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্যে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রাখে। ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে রাশিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা নয়াদিল্লিতে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।’
▪ভারত ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়াকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে এসেছে। কিন্তু বেইজিংয়ের সঙ্গে মস্কোর সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা এবং পাকিস্তানে বিনিয়োগের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
▪দুই দেশের (রাশিয়া ও পাকিস্তান) একটি যৌথ গ্রুপ এই প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন তদারকি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতের জন্য গভীর কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।’
▪এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক গতিমুখে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে—যা ভারত-রাশিয়া ঐতিহাসিক সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।‘
এসসি//



