◆বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার এবং কৌশলগত অবস্থান সুসংহত করতে বাংলাদেশসহ একাধিক দেশে সামরিক অবকাঠামো নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন—এমনটাই উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) সদ্য প্রকাশিত বার্ষিক ‘হুমকি মূল্যায়ন’ প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, চীনের সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতির তালিকায় রয়েছে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কিউবা, কেনিয়া, গিনি, সিসিলিস, তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া, নামিবিয়া, মোজাম্বিক, গ্যাবন, পাপুয়া নিউ গিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও তাজিকিস্তান।”
‘ডিআইএর মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রভাব ও কৌশলগত উপস্থিতির পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই চীন এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য হচ্ছে পূর্ব এশিয়ায় প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা।’
▪প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনের কৌশলিক অগ্রগতির মূল অংশ হলো—তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করা, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করা।’
▪এই লক্ষ্য পূরণে চীন বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করছে—যার মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক চাপ, সামরিক শক্তি প্রদর্শন, তথ্য যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ বৈশ্বিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে দেশের সামর্থ্য বৃদ্ধি করছেন।”
▪এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোটগুলোর মধ্যে আস্থা দুর্বল করা, ওয়াশিংটনের কৌশলগত সিদ্ধান্তসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রতিকূল পদক্ষেপ প্রতিহত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করাও রয়েছে চীনের পরিকল্পনায়।”
এসসি//



