◆মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চে বড়সড় বার্তা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, “যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো দেশের রাষ্ট্রগঠনে নাক গলাবে না।”
▪ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বকে কীভাবে জীবনযাপন করতে হবে, তা শেখানো আমেরিকার দায়িত্ব নয়।”
তার এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সম্মেলনস্থল করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ রাজনীতিক ও বিনিয়োগকারীরা।”
▪এই ভাষণে ট্রাম্প কার্যত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বহুদিনের হস্তক্ষেপমূলক নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ইরাক, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও গাজায় মার্কিন ভূমিকাকে ইঙ্গিত করেই তিনি বলেন, “যারা রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করেছেন, তারা অনেক সময়েই দেশ গড়ার চেয়ে বেশি ধ্বংস করেছেন। তারা এমন সমাজে হস্তক্ষেপ করেছেন, যেগুলো তারা বুঝতেই পারেননি।”
▪তিনি আরও বলেন, “আমি মধ্যপ্রাচ্যের জনগণকে আহ্বান জানাই—আপনারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুন।”
ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় মিশ্র প্রতিধ্বনি
▪ইয়েমেনের রাজধানী সানার এক রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বলেন, “ট্রাম্প কে? তিনি কাকে ক্ষমা করবেন, কোন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবেন—এসব ঠিক করার তিনি কে?” যদিও শেষ পর্যন্ত তিনিই বলেন, “তবে দুনিয়াটা এভাবেই চলে।”
▪সৌদি শিক্ষাবিদ সুলতান আলআমের বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য যেন ঔপনিবেশিক বিরোধী চিন্তাবিদ ফ্রাঞ্জ ফাঁনোর লেখার প্রতিধ্বনি।’
▪সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ উল্লাস প্রকাশ করেছেন, কেউ সন্দেহ করেছেন ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে।”
বিনিয়োগ ও কূটনীতি:একসাথে দুই বার্তা
▪চার দিনের উপসাগরীয় সফরের শুরুতেই ট্রাম্প এই ভাষণ দেন। সফরে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি আলোচনায় এসেছে।’
▪তবে শুধু অর্থনৈতিক দিক নয়, ভাষণে ছিল কূটনৈতিক বার্তাও।ট্রাম্প সৌদি আরবকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। যদিও সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা এমন কোনো পদক্ষেপ বিবেচনায় নেবেন না।’
▪তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, “আমি ‘চিরশত্রু’ শব্দে বিশ্বাস করি না।”
▪এছাড়া তিনি সিরিয়ার নতুন নেতা আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন—যার ছবি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।”
সমালোচনাও ছিল স্পষ্ট
▪সৌদি আরবে বন্দি এক আলেমের ছেলে আবদুল্লাহ আলাওধ বলেন, “যখন ট্রাম্প বলছিলেন ‘মধ্যপ্রাচ্য গড়েছে এখানকার মানুষ’, তখন তার চারপাশে ছিল বিদেশি ধনকুবের, আর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক স্বৈরশাসক—তাতে তার বক্তব্যকে বিদ্রুপ মনে হয়েছে।”
▪তবু, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এই ভাষণকে “অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দৃষ্টিভঙ্গি” বলে আখ্যায় দেন।
▪নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো আলআমের বলেন, “ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছু বিষয় উঠে এসেছে যা সাধারণত বামপন্থী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চিন্তাবিদদের আলোচনায় দেখা যায়। নতুন রক্ষণশীল জনতাবাদী আন্দোলনগুলো সেসব দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্যবহার করছে নিজের মতো করে।”
▪মানবাধিকার আইনজীবী নেগাদ আল-বোরাই বলেন, “ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন কিছু নয়। মার্কিন প্রশাসন বহুদিন ধরেই যা করে আসছে, এবার সেটা সরাসরি ও খোলাখুলি বলা হয়েছে।”
এসসি//



