গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে একে একে নিভে গেল একটি পরিবারের সব আলো। পুরান ঢাকার সূত্রাপুর কাগজিটোলায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন ওই পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য—মা চাঁদনী।
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (১২ জুলাই) ভোর রাতে। পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার কাগজিটোলা নামে একটি মহল্লায় নতুন ভাড়া নেয়া একটি বাসায় রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকেই এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
প্রতিবেশী মো. জাকির হোসেন জানান, “ওই বাসায় তারা কিছুদিন আগে উঠেছে। গ্যাসের সিলিন্ডার ছিল, রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। আমরা গিয়ে দেখি ভেতরে শিশুসহ সবাই দগ্ধ। পরে দ্রুত সবাইকে জাতীয় বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়।”
প্রথমে মারা যায় এক বছরের শিশু আয়েশা, এরপর তার দুই ভাই তামিম ও রোকন। এরপর বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাদের বাবা মো. রিপন (৩৫)। তিনি ছিলেন পেশায় ভ্যানচালক। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো চার জনে।”
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, “রিপনের শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শ্বাসনালিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অবশেষে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে শিশু আয়েশা, তামিম ও রোকন মারা গেছে।”
রিপনের স্ত্রী চাঁদনী এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ এবং শ্বাসনালীও ঝলসে গেছে। হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে পরিবারের লোকজন রিসবন্ডে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “চাঁদনী আপাতত বেঁচে থাকলেও চিকিৎসকরা আশান্বিত নন।”
একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের মধ্যে চারজন ইতিমধ্যেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন। হাসপাতালে থাকা চিকিৎসক ও আশপাশের মানুষ বলছেন, এটা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি গাফিলতির ভয়ঙ্কর মূল্য। গ্যাস লিকেজ ও নিরাপত্তাহীন পুরান ঢাকা বারবার এমন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হচ্ছে।”
এসসি//



