◆রাজধানীর মতিঝিলের নটরডেম কলেজের ভবন থেকে পড়ে ধ্রুবব্রত দাস (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সে চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার দেওয়ার কথা ছিল। তবে ওই শিক্ষার্থীর মা তমারানি সিং দাবি করেন তার ছেলেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছে।°
▪সোমবার(১২ মে) বেলা তিনটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।পরে গুরুতর আহত অবস্থাটাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকাল সোয়া চারটায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।▪
▪নিহত ধ্রুবব্রত দাসের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সদর থানার মধ্যপাড়া এলাকায়। সে ওই এলাকার বানী ব্রত দাসের ছেলে ছিল। বর্তমানে টিকাটুলির ৪৮/৯ বাসার মাসকান ভিলার ৩/ এ বাসায় ভাড়া থাকতো।’
▪নিহত শিক্ষার্থীর মা তমা রানি সিং বলেন, আমার ছেলে অনেক শান্তশিষ্ট ভদ্র ছিল।আমার দুইটা ছেলে। আজ তাদের টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্টের কার্ড আনতে গিয়েছিল। এই বছর সে নটরডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিবে। তার বাবা তার সাথে কলেজে গিয়েছিল তবে গার্ডিয়ান কলেজে ঢুকতে না দেওয়ায় তার বাবা বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিল। এক-দেড় ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সে বের না হলে আমাকে ফোন দেয়। পরে আমি তার বাবাকে জানাই তার কাছে ছোট একটি বাটন মোবাইল আছে তাকে ফোন দেও তার বাবা বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও সে ফোন ধরেনি। এর কিছুক্ষণ পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ তাকে গেটের বাইরে নিয়ে আসলে জানায় সে ভবন থেকে পড়ে গেছে। পরে তাকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জানায় আমার ছেলে আর বেচে নেই।’
▪তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে অনেক শান্ত শিষ্ট সে এভাবে পড়ে মারা যেতে পারে না তাকে হয়তো কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে মেরে ফেলেছে। তার বাবা গাইবান্ধা জেলায় গ্যাসের ব্যবসা করে এবং আমি অনলাইনে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি করি। আমার আরেকটি ছেলে রয়েছে বৃত্তি ব্রতদাস। আমার ছেলে ছেলে তো আর রইল না আমি কি নিয়ে থাকবো।’
◆নিহতের কয়েকজন সহপাঠীর জানায়, আমরা কমার্স ভবনের এক তলায় ছিলাম। সে কি কারণে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হয়ে কমার্স ভবনে এসেছিল সেটা বলতে পারিনা। আমাদের কমার্স ভবন থেকেই সে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
◆নটরডেম কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শুভাশিষ সাহা বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছি শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে পেরেছি কমার্স ভবনের যে কোন ফ্লোর থেকে সে নিজেই পড়ে মারা গেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে জানা যাবে এটি হত্যা না দুর্ঘটনা।’
◆এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহরিয়ার আলী বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরেছি।প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পারি তৃতীয় তলার রেলিং এর উপর সে বসা ছিল সেখান থেকেও সাবধানতা বসত নিচে পড়ে মারা গেছে। তদন্ত চলছে বিস্তারিত পরে জানা যাবে।’
এসএএ//



