বিদ্যুৎ খাতে সরকারের দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকার থাকা অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট (২১,৬৫১ কোটি টাকা) থেকে কম।'
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সোমবার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে জানান, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি নির্ভরতা কমাতে হবে। এজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সার্বিক ব্যয় ১০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
- √২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩৩,৮২৫ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটে কমে আসে ২৭,১৭৫ কোটি টাকায়।
- √২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয় ২৯,১৭৭ কোটি টাকা, পরে সংশোধিত বাজেটে নেমে আসে ২১,৬৫১ কোটি টাকায়।
- √আর এবার, ২০২৫-২৬ সালে তা আরও কমে ২০,৩৪২ কোটি টাকায় এসেছে।
এই বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২০,২৮৪ কোটি টাকা এবং পরিচালন ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৫৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য ১৩ কোটি টাকা বেশি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভর্তুকির পরিমাণ কমাতে হবে। এজন্য খরচ হ্রাস এবং চুক্তির পর্যালোচনার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।”
এছাড়াও, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষ বিধান আইন’ বাতিল করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে। ওই আইনের আওতায় করা চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালাকে যুগোপযোগী করে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জন করা।
এই বাজেট প্রস্তাবে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাজেট বরাদ্দে কাটছাঁট এবং ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার নীতিরই প্রতিফলন। অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে বিদ্যুৎ খাতে নীতিগত সংস্কারের প্রয়াস জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
এসসি//



