দামি ফোন নিয়ে ঘুরলে ছিনতাই হবেই—ভুক্তভোগীকে বললেন মোহাম্মদপুরের ওসি!
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাত্র ৩ মিনিটের দূরত্বে থানার সামনেই চাপাতি দিয়ে আঘাত করে সাংবাদিক আহমাদ ওয়াদুদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে একদল ছিনতাইকারী।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তিনি ও তার স্ত্রী মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ে হাঁটার সময় এই ছিনতাইয়ের শিকার হন। হামলাকারীরা চাপাতি দিয়ে তাকে কিছুটা আঘাতও করে। ভাগ্যক্রমে আঘাত গুরুতর নয় এবং তার স্ত্রী নিরাপদে ছিলেন।
ঘটনার পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে সহযোগিতা চাইলে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবিশ্বাস্যরকমের উদাসীনতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
সাংবাদিক আহমাদ তার ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরে লেখেন, থানায় পৌঁছেই ডিউটি অফিসার এসআই জসিমের সঙ্গে দেখা হয়। তখন তার শার্টের একটি বোতাম খোলা ছিল, যা দেখে পাশে থাকা একজন সাদাপোশাকধারী পুলিশ সদস্য তীব্র ভাষায় বলেন, “আপনার বোতাম লাগান।” এরপর অভিযোগ নিতে কালক্ষেপণ করা হয়। কলম না দেওয়ার অজুহাত দেওয়া হয়, যদিও সামনে অনেক কলম দেখা যাচ্ছিল।

এমনকি অভিযোগ গ্রহণের পরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বরং এসআই জসিম বলেন, “ওখানে গিয়ে ছিনতাইকারীরা বসে থাকবে নাকি? আপনার কমন সেন্স নাই?”
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে, যখন ভুক্তভোগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। আহমাদ ওয়াদুদের ভাষায়, ওসি বলেন, “আমি ওসি হয়েও এই কমদামি ফোন ব্যবহার করি, আপনি এত দামি ফোন নিয়ে ঘুরলে ছিনতাই তো হবেই!”
এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তোলে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন নাগরিক তার নিজের জিনিস নিয়ে রাস্তায় হাঁটলে যদি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে পুলিশ, তাহলে তারা কী কাজে আছে?
ওই সাংবাদিকের পোস্টে লুফাইয়া স্বাম্মী নামে একজন কমেন্টে লিখেন, কি ভয়ানক আচরণ! এরা তো মনে হচ্ছে ছিনতাইকারীর সহচর। এদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট হওয়া দরকার।

কমেন্টে আজমি আঞ্জুম আয়াশকা লিখেন, এই লোক আমাকে বলছে রাতের বেলা বের হইলে ছিন তা-ই তো হবেই, আমার হাসবেন্ডকে ছিন তা-ই কারি পায়ে কোপ দেয় কিন্তু আল্লাহর রহমতে পায়ে তেমন কিছু হয় নাই টিস্যু ড্যমাজ হইছে, কিন্তু এইটা ওনারে বলার পরে বলে বেশি কিছু তো হয় নাই, ছিন তা-ইকারী আরো অনেক ক্ষতি করে।আমার কথা হলো এইগুলা কি একজন পুলিশের কথা হতে পারে!!!
পরবর্তীতে এএসআই আনারুলের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গেলে ছিনতাইকারীরা এখনো সেখানে অবস্থান করছিল। আহমাদ ওয়াদুদ নিজেই তাদের চিহ্নিত করেন। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে দূর থেকে তাকিয়ে থাকেন। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা পুলিশ দেখে সরে পড়ে। এএসআই আনারুল তখন বলেন, “এখন তো ওদের পাওয়া যাবে না, গভীর রাতে অভিযান চালাবো।”
এদিকে তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ইতোমধ্যে এই ঘটনায় আমরা তদন্ত শুরু করেছি। বিষয়টি আমাদের সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তারা অবগত রয়েছে। আমরা ওই সাংবাদিকের যে মোবাইল ছিনতাই হয়েছে সেটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি আশা করি আপনাদের ভালো সংবাদ দিতে পারব বলে জানান তিনি।”
এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পরে পুলিশ প্রশাসন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর সঙ্গে খারাপ আচরণকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মোহাম্মদপুর থানার দুই কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হয়েছে।”
এসসি//



