ঢাকা:রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকায় অনার্স ছাত্র সামিউর রহমান খান আলভি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতা ও মাদক সেবন নিয়ে বিরোধের জেরেই ঘটেছে এই হত্যাকাণ্ড।
গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন–মো. রায়হান (২০), মো.হাবিবুর রহমান মুন্না (২৬), সমতি পাল (২৩) ও কাউসার (২১)। ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আলভি হত্যা:কীভাবে ঘটল?
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান,নিহত সামিউর রহমান খান আলভি হাজারীবাগে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং ড. মালেকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
গত শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় আলভি তার বন্ধু আশরাফুল ইসলাম, জাকারিয়া এবং ইসমাঈল হোসেনের সঙ্গে ধানমন্ডি লেকপাড়ে একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছিলেন।
সেখানে থাকা অবস্থায় জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে এবং অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
নৃশংস হামলা ও মৃত্যু:
পুলিশ জানায়,আসামিরা ছুরি ও চাপাতি দিয়ে আলভি এবং তার বন্ধুদের শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।
স্থানীয়রা আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে, রাত ৯টা ৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলভিকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার তিন বন্ধু গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার:
আলভির বাবা মো.মশিউর রহমান খান বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে মাদকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে। পুলিশ জানায়, ১৫ মে রাত ৯টায় বাগানবাড়ী লেকে ভিকটিমদের সঙ্গে আসামিদের কথা কাটাকাটি হয়, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ।
১৮ মে বিকেলে রায়হান এবং ১৯ মে বিকেলে সমতিপালকে গ্রেপ্তার করা হয়।২০ মে রাত ১২ টা ২০ মিনিটে হাবিবুর রহমান মুন্না ও কাউসার গ্রেপ্তার হন।গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে, জানায় পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রমনা বিভাগ।
এসসি//



