◆পটুয়াখালীর বাউফলে দুই সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আমিনুল ইসলাম।''
সোমবার (১৯ মে) বেলা ১১ টার দিকে বাউফল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে তিনি কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি এমরান হাসান সোহেল ও খবরপত্রের বাউফল প্রতিনিধি এইচএম বাবলুকে এ হুমকি দেন’।
ঘটনার সময় ইউএনও বলেন, ‘আমি কারও ফোন ধরতে বাধ্য না। আমাকে চিঠি দিতে হবে। আমরা প্রজাতন্ত্রের এমন চাকর, যে মালিককে জেলে দিতে পারি।’
এই বক্তব্য স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এর আগে সাতক্ষীরার তালায় কালের কণ্ঠের সাংবাদিকের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল।’
জানা গেছে, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের পটুয়াখালী জেলা কার্যালয় ও বাউফল দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে একটি স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ওই কমিটির সভাপতি কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি এমরান হাসান সোহেল ইউএনও আমিনুল ইসলামকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করেন তিনদিন ধরে—বৃহস্পতিবার, শনিবার ও রোববার। কিন্তু ইউএনওর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি, এমনকি পরে ফোন কেটে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।’
অবশেষে অনুষ্ঠান চলাকালে প্রধান শিক্ষকের আমন্ত্রণে ইউএনও স্কুলে হাজির হন এবং সেখানে উপস্থিত হয়ে তীব্র ভাষায় প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির কাছে কৈফিয়ত চান।
ইউএনও বলেন,‘আপনারা একটা অ্যারেঞ্জমেন্ট করছেন, ইউএনও জানে না। এ আয়োজনের এখতিয়ার কে দিয়েছে?’
তিনি আরও বলেন,উপজেলা কমপ্লেক্সে তো কাউয়া-বক থাকে, আপনি আমার বাংলোতে গেলেন না কেন? আমার বাংলো একটা অফিস।’
এ সময় এমরান সোহেল বলেন, ‘আপনার বাংলোতে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না।’ জবাবে ইউএনও বলেন, ‘যখন অ্যালাউ করব, তখন ঢুকবেন।’ এরপর আরও উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন,‘আমি প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নয়, রাষ্ট্রের কর্মচারী। আমি ফোন ধরতে বাধ্য না।’
‘ঘটনার একপর্যায়ে ইউএনওর গাড়িচালক সাংবাদিক এইচএম বাবলুকে পিয়নের মাধ্যমে হুমকি দেন এবং সরি বলার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।’
‘এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ পেয়েছে। তারা ইউএনওর এমন আচরণের তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।’
▪পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বলেন,‘আমি এখনো এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসসি//



