কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাজধানী ঢাকায় ফের বড় আকারের মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ২টার দিকে সংসদ ভবন এলাকায় এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মিছিলটি বিজয় সরণি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে শুরু হয়ে সংসদ ভবনের রাস্তা ধরে খামারবাড়ি গিয়ে শেষ হয়। এতে অন্তত হাজারখানেক নেতাকর্মী অংশ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহমেদ ফয়সাল বলেন, “হাজারখানেক লোক মেট্রোরেলের মোড় থেকে মিছিল শুরু করে খামারবাড়ির দিকে যেতে থাকে। তারা ‘শেখ হাসিনা’, ‘জয়বাংলা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, রাজপথ কাঁপবে’—এমন স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যায়।”
তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোবারক হোসেন জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে আওয়ামী লীগের একদল নেতাকর্মী বিজয় সরণি মেট্রোরেল স্টেশনের পাশ থেকে মিছিল করে খামারবাড়ির দিকে যায়। এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সিরাজুল ইসলামকে ব্যানারসহ আটক করে।’
মাদারীপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, “এখানে শুধু দলীয় নেতাকর্মী নন, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষও অংশ নিয়েছেন। দিন দিন মিছিল আরও বড় হবে। এই অবৈধ সরকারের অধীনে কেউ ভালো নেই। কয়েক দিনের মধ্যেই সারা দেশের মানুষ রাজপথে নামবে।”
এর আগের দিন (৬ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর তেজগাঁও নাবিস্কো এলাকায় আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিছিল করেন। তার আগে ৩১ আগস্ট ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোড থেকে শংকরের বাংলাদেশ আই হসপিটাল পর্যন্ত মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। এরও এক সপ্তাহ আগে গুলিস্তানের বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইট এলাকায় শতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভে অংশ নেন।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-গণ আন্দোলনে ক্ষমতা হারিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর তিন দিন পর (৮ আগস্ট) অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সহযোগী জোটের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়। তবুও অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন এলাকায় দলটির নেতাকর্মীরা রাজপথে মিছিল ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।”
এসসি//



