রাজধানীর শেরেবাংলা নগর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দখল নিতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা জাহিদ হোসেন মোড়লের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আলিম।
রবিবার(২৫ আগষ্ট) দিবাগত রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় এই সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
শেরেবাংলা নগর কৃষক দলের আহবায়ক আব্দুল আলিম বলেন, হৃদরোগ হাসপাতালে দালাল চক্র এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকরা মিলে একটি সিন্ডিকেট করেছে। সেখানে তারা বাইরের কোন অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে দেয় না। পরে সেই সিন্ডিকেট আমরা ভাঙ্গার চেষ্টা করি এবং শুধু অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা এই অ্যাম্বুলেন্স স্টান্ডটি চালায়। শনিবার রাতে হৃদরোগ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দখল নিতে জাহিদ মোড়লের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে হাসপাতালে আসে। আমি রাত ৯ টার দিকে হাসপাতালে যাই। পরে আমার কাছে রিপন নামে একজনকে পাঠায় যে জাহিদ মোড়ল আপনাকে ডাকে। পরে আমি আসলে সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং চড় থাপ্পড় করে মারতে থাকে। তখন সে আমাকে বলে আমি জাহিদ মোড়ল বহিষ্কার হয়েছি তাতে কি হয়েছে আমি কিন্তু জাহিদ মোড়ল? একেবারে জানে মেরে ফেলবো। শ্রমিক দলের বহিষ্কৃত নেতা হাসান জাহিদ মোড়লের নেতৃত্বে হৃদরোগ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দখল নিতে চায়। যার কারণে সে স্ট্যান্ড দখল নেওয়ার জন্য এখানে অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে হাসপাতালে আসে।

তিনি আরো বলেন, আশেপাশে তখন অনেক লোকজনই ছিল তখন কেউ এগিয়ে আসেনি। আমি একজন রানিং কৃষক দলের আহ্বায়ক সে আমার গায়ে হাত তুলল। তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আমি চিনতে পারি। এদের মধ্যে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের রহমত হোসেন জয়, আরমান, শেরে বাংলা থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক রিপন,আদাবরের নূর মোহাম্মদ রিয়াদ,রুবেলসহ অজ্ঞাত ও আরো ৪০ থেকে ৫০ জন। পরে আমি রাতে এই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করি এবং আজকে থানা আমি আরো একটি অভিযোগ দায়ের করব।
এদিকে জাহিদ মোড়লের অন্যতম সহযোগী শ্রমিক দলের বহিষ্কৃত নেতা হাসান জানান, ওইখানে আমার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসা আছে। মহসিন, রাকিব, জাহিদ এরা আমার লাইন ম্যান এবং চালকসহ চারজনকে মেরে গুরুতর আহত করেছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং এই ঘটনায় আমরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যা এবং রাতে দুই দফা মারামারি হয় এই অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে। পরে জাহিদ মোড়ল তার লোকজন নিয়ে এসে আবার এখানে মারপিট করে। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি টিম আসে এর আগেই তারা পালিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, এখানে শ্রমিক দলের বহিষ্কৃত একজন নেতা হাসান সে সোহরাওয়ার্দী পঙ্গু হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দখল করেছে। এখন তারা হৃদরোগ হাসপাতাল স্টান্ড দখল করার জন্য এখানে সে জাহিদ মোড়লকে নিয়ে এসে একটা অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটায়। ঘটনার দিন যারা এসেছে আদাবর মোহাম্মদপুর শেরেবাংলা নগর তারা সবাই জাহিদ মোড়লের লোকজন। অবশ্যই জাহিদ মোড়লের এখান থেকে মোটা অংকের টাকা যায় সেজন্যই সে এখানে এসেছিল। শুধু জাহিদ মোড়ল এখানে আসেনি তার সাথে অস্ত্র ছিল এবং তার সাথে আদাবর মোহাম্মদপুর শেরেবাংলা নগর থেকে যারা এসেছে তাদের সবার কাছেই অস্ত্র ছিল।
শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসেন রিপন জানান, আমি প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার সামনে ছিলাম পরে শুনতে পারলাম জাহিদ মোড়ল ভাই আসবেন তাই আমি হৃদরোগ হাসপাতলে যাই। আমি যতদূর জানি উনি রোগী দেখতে এসেছিলেন। তবে সন্ধ্যার দিকে একটা মারামারির ঘটনা আমি শুনেছিলাম। ওই সময় বৃষ্টি নামতে ছিল আমি ভিতরে ঢুকে গেলাম কয়েক মিনিট পরেই দেখলাম জাহিদ মোড়ল ভাই আসছে। আমি কোন মারামারি দেখি নাই।
তিনি আরো জানান,এখানে মূলত হৃদরোগ অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড দখল করাকে কেন্দ্র করে মহসিন ও হাসানের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। হাসানের কি ব্যবসা আছে যে সে আর ওয়ান ফাইভ ভার্সন ফোর চালায় এই কথা জানতে চাইলে সে জানায় আমাদেরও একই প্রশ্ন?
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় একটি ক্যাপ পরে তার দল বল নিয়ে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স এর অফিসের দিকে ঢুকছে। এছাড়া ওখানে একটি ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভাঙচুর করা হয়।
জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) সিরাজুল ইসলাম জানায়, আগে এখানে ফারুক গ্রুপ ছিল হাসান গ্রুপ এসে তাদেরকে মেরে বের করে দেয়। আমরা তো আর তাদের সাথে মারামারি করতে পারি না। পরে রাতে আবার আরেক গ্রুপ আসছিল তখন আবার অন্য গ্রুপ ছিল না। ঘটনার ডিটেইলস আমি সব কিছু বলতে পারছি না।
তেজগাঁও বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জাহিদ হোসেন মোড়লকে আমরা খুঁজছি। তবে তাকে এখনো পাওয়া যায়নি। বহিষ্কার হওয়ার পর থেকে সে আত্মগোপনে চলে যায়। শুধু পুলিশ নয় তাকে যৌথবাহিনী ও খুঁজছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক জানান, ঘটনার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি এবং এই ঘটনায় এক পক্ষ আমাদের থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং আর একটি পক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। দুটি বিষয় আমরা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জাহিদ হোসেন মোড়লের বিরুদ্ধে একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর গত ৩ জুলাই তাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এরপর থেকেই জাহিদ হোসেন মোড়ল আত্মগোপনে চলে যান। বহিষ্কারের পরদিন ভোর রাতে সেনাবাহিনী তার বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে জাহিদ হোসেন মোড়লকে পাওয়া না গেলেও অবৈধ ওয়াকি টকিসহ তার বড় ভাই দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে সেনাবাহিনী।পরে দেলোয়ারকে মোহাম্মদপুর থানায় গ্রেপ্তার। দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। জাহিদ মোড়লের বিরুদ্ধে জমি দখল চাঁদাবাজি গুলিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এসএএ//



